সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থান, পানগুছি নদীর তীর এবং ম্যানগ্রোভ গাছপালায় ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলার শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে। প্রায় ৪০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদনকেন্দ্রটি স্থানীয়দের কাছে ‘ছোট সুন্দরবন’ নামে পরিচিত। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের অভাবে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে এর সৌন্দর্য।
ইন্দুরকানী উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকায় পানগুছি নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। কেওড়া, বাইন, গেওয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ, নদীর শান্ত স্রোত ও শীতল বাতাস এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে করেছে অনন্য। ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের পাশাপাশি পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সময় কাটাতে আসতেন।
কিন্তু বর্তমানে পার্কটির বিভিন্ন স্থাপনা ও বিনোদনসামগ্রী নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও অবকাঠামোর বেহাল দশা চোখে পড়ে। প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচর্যা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে দর্শনার্থীদের আগ্রহও আগের তুলনায় কমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পার্কটি নির্মাণের পর এর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং, বসার স্থান, বিশ্রাম ও থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং আধুনিক বিনোদনসুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শুধু শ্যামলী নিসর্গ নয়, এর আশপাশেও রয়েছে পর্যটনের নানা উপকরণ। বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার, মোংলা বন্দরসহ আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ধর্মীয় স্থাপনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে পর্যটন পরিকল্পনা করা গেলে এই অঞ্চলকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন রুট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রায় ৪০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট উপজেলার একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য সড়ক যোগাযোগ, গাড়ি পার্কিং ও থাকার ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।”
পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “পার্কটি সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পার্কটিকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে কার্যক্রম চলছে। পিরোজপুরের পাশাপাশি বাগেরহাট ও ঝালকাঠি থেকেও যাতে দর্শনার্থীরা সহজে এখানে আসতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে ‘ছোট সুন্দরবন’খ্যাত এই বিনোদনকেন্দ্রটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

হাসান মামুন, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধিঃ 



















