ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ট্যাংক দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা পিরোজপুর সদরকে শিশুশ্রম ও ঝরে পড়া শিশুমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পিরোজপুরে তার কাটার সময় যুবক আটক, বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের দাবি ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের ক্যানসারে মারা গেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা: শেষকৃত্যে যোগ দিতে ৫ ঘণ্টার প্যারোল পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কর্মশালা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা মোরেলগঞ্জে ইউপি প্রকল্পের টাকা ও জেলের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

সংগৃহীত ছবি

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

​বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
​বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। পরে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা দায়িত্বে যোগদান করেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।​

জনপ্রিয়

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

আপডেট : ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

​বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
​বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। পরে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা দায়িত্বে যোগদান করেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।​