ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের হোয়াইক্যং প্রাইভেটকারের বাম্পারে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ১ পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত একরাম হত্যা মামলা: র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ সেনা হেফাজতে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক কাজ তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘদিন ভোলা জেলার একমাত্র হাঁস প্রজনন খামারটি বন্ধে উদ্যোক্তারা হতাশ

 

ভোলা জেলার খামারিদের একসময়ের আশার প্রতীক আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি নানা সংকটে পড়ে গত তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। হ্যাচারির মেশিন ও জেনারেটর বিকল এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে এখানে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তারা খামার গড়তে পারছেন না, অন্যদিকে পুরোনো খামারিরা উচ্চমূল্যে নিম্নমানের বাচ্চা কিনে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন। বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, সরকারি এই সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তা এখন থমকে গেছে।

 

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারে গিয়ে দেখা যায়, একসময়ের ব্যস্ত এই খামারে এখন পিনপতন নীরবতা। হ্যাচারির বাচ্চা ফোটানোর দুটি মেশিন ও জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। হাঁস রাখার ছয়টি শেডের মধ্যে মাত্র দুটিতে প্রায় ৪০০টি হাঁস রয়েছে এবং বাকি শেডগুলো অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ।

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১৩ সালে ভোলায় এই খামার নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাচ্চা উৎপাদন শুরু হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে সীমিত পরিসরে চালু হলেও ২০২৩ সাল থেকে তা আবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উৎপাদন না থাকায় খামারের আউটসোর্সিং কর্মচারীরাও বর্তমানে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বাচ্চার অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

 

সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মো. ছালাউদ্দিন ও নুরুল ইসলাম জানান, উন্নত জাতের বাচ্চার অভাব এবং খোলা বাজারের অতিরিক্ত দামের কারণে তারা হাঁসের খামার করার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

 

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে বাচ্চা কিনলে কয়েকদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ বাচ্চা মারা যায়, ফলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মো. ইমরান হোসেন জানান, সরকারি খামারে একসময় ২৫ থেকে ৩০ টাকায় উন্নত জাতের বাচ্চা পাওয়া যেত, যা এখন বাইরের বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হয়।

 

চরাঞ্চলে বড় পরিসরে হাঁস পালনকারী দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামের মো. নুরুজ্জামান জানান, বাচ্চার সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে আগের মতো খামার পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

খামারের এই অচলাবস্থা সম্পর্কে ভোলা হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহীন মাহমুদ জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জেনারেটর এবং বাচ্চা ফোটানোর আধুনিক মেশিন দুটি গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ নষ্ট। পাশাপাশি খামারটিতে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। রাজস্ব খাতে ৫ জন এবং আউটসোর্সিংয়ে ১০ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে রাজস্ব খাতে কেউ নেই এবং আউটসোর্সিংয়ে মাত্র ৪ জন কর্মরত আছেন।

 

তিনি আরও জানান, কারিগরি ত্রুটি ও লোকবল সংকটের কারণেই মূলত বাচ্চা উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে সমস্ত সমস্যা সমাধান করে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত সচল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল পেলেই খামারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

দীর্ঘদিন ভোলা জেলার একমাত্র হাঁস প্রজনন খামারটি বন্ধে উদ্যোক্তারা হতাশ

আপডেট : ১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

ভোলা জেলার খামারিদের একসময়ের আশার প্রতীক আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি নানা সংকটে পড়ে গত তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। হ্যাচারির মেশিন ও জেনারেটর বিকল এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে এখানে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তারা খামার গড়তে পারছেন না, অন্যদিকে পুরোনো খামারিরা উচ্চমূল্যে নিম্নমানের বাচ্চা কিনে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন। বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, সরকারি এই সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তা এখন থমকে গেছে।

 

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারে গিয়ে দেখা যায়, একসময়ের ব্যস্ত এই খামারে এখন পিনপতন নীরবতা। হ্যাচারির বাচ্চা ফোটানোর দুটি মেশিন ও জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। হাঁস রাখার ছয়টি শেডের মধ্যে মাত্র দুটিতে প্রায় ৪০০টি হাঁস রয়েছে এবং বাকি শেডগুলো অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ।

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১৩ সালে ভোলায় এই খামার নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাচ্চা উৎপাদন শুরু হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে সীমিত পরিসরে চালু হলেও ২০২৩ সাল থেকে তা আবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উৎপাদন না থাকায় খামারের আউটসোর্সিং কর্মচারীরাও বর্তমানে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বাচ্চার অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

 

সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মো. ছালাউদ্দিন ও নুরুল ইসলাম জানান, উন্নত জাতের বাচ্চার অভাব এবং খোলা বাজারের অতিরিক্ত দামের কারণে তারা হাঁসের খামার করার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

 

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে বাচ্চা কিনলে কয়েকদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ বাচ্চা মারা যায়, ফলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মো. ইমরান হোসেন জানান, সরকারি খামারে একসময় ২৫ থেকে ৩০ টাকায় উন্নত জাতের বাচ্চা পাওয়া যেত, যা এখন বাইরের বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হয়।

 

চরাঞ্চলে বড় পরিসরে হাঁস পালনকারী দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামের মো. নুরুজ্জামান জানান, বাচ্চার সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে আগের মতো খামার পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

খামারের এই অচলাবস্থা সম্পর্কে ভোলা হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহীন মাহমুদ জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জেনারেটর এবং বাচ্চা ফোটানোর আধুনিক মেশিন দুটি গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ নষ্ট। পাশাপাশি খামারটিতে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। রাজস্ব খাতে ৫ জন এবং আউটসোর্সিংয়ে ১০ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে রাজস্ব খাতে কেউ নেই এবং আউটসোর্সিংয়ে মাত্র ৪ জন কর্মরত আছেন।

 

তিনি আরও জানান, কারিগরি ত্রুটি ও লোকবল সংকটের কারণেই মূলত বাচ্চা উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে সমস্ত সমস্যা সমাধান করে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত সচল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল পেলেই খামারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।