ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন অঞ্চলের ঐতিহাসিক মাটির বাড়ি

  • ইমন মিয়াঃ
  • আপডেট : ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১৬৫ ভিউ

 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিচ্ছে ইট-পাথরের দালান। সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো অনেক অনেক মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলেন, গরীবের এসি ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম ও খুব শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর। এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না মাটির ঘর। বেশ আগের কথা যখন গাঁও-গ্রামে দৃষ্টিনন্দন মাটির ঘর বাড়ি ছিল। মাটির ঘর দেখতে হলে গাঁও-গ্রামেই যেতে হয়তো। আর গাঁও-গ্রামেই এখনো অনেক মাটির ঘর বাড়ির দেখা মিলে না। গ্রামের অঞ্চলের লোক স্বাবলম্বী হয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করে গরীব পরিবারগুলো এখন তৈরি করছে ছোট বড় আধাপাকা বাড়ি। এক সময় দুপচাঁচিয়া উপজেলাতে প্রতিটি গ্রামে মাটির ঘর চোখে পড়তো। মাটির ঘরকে স্থানীয় ভাবে কোঠার ঘর বলে থাকেন অনেকেই। তবে সামান্য কয়েকটি জায়গা ছাড়া এখন আর কোথাও এ ঘর দেখা যায় না। আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের বিবর্তনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ চিরচেনা মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। গত কয়েক বছর ধরে মাটির ঘর নতুন করে কেউ আর তৈরি করছেন না। ইট, বালুর সহজলভ্যতার কারণে এবং গরিব মানুষ গুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিরায়ত বাংলার মাটির তৈরি এসব ঘর।

 

মাটির ঘরের কারিগর জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে মাটির ঘর বানানোর জন্য সময় পেতাম না। একটি ঘর বানানোর পর পরই আরোটিতে কাজে লাগতে হতো। কিন্তু এখন আর এগুলো বানাই না। সবাই এখন পাকা, আধা-পাকা কিংবা টিনের ঘর বানায়। এক একটি মাটির ঘরগুলো বানাতে মাস খানেক সময় লেগে যেতো। তবে এক মাসে প্রায় ৪-৬টি ঘরের কাজ করতাম।

 

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার আট গ্রামের নগরপাড়ার মো মজনু খাঁন বাড়িতে সেই পুরোনো স্মৃতিভরা শান্তির নীড় মাটির ঘর দেখা যায়। মো. মজনু খাঁন জানান, এই ঘর আমার দাদার ছিল। সে মারা যাওয়ার পর আমার বাবা থাকতেন। এখনও ঘরটি রয়েছে। দাদার পুরোনো স্মৃতি ধরে রাখতে এখনো মাটির ঘর রেখে দিয়েছি। তবে যুগের সাথে তাল মেলাতে এখন অনেকে ইটের ঘর তৈরি করছে, তাই ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর।

 

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম নগরপাড়ার নাহিদ হাসান জানান, এক সময় প্রায় বাড়িতেই মাটির ঘর ছিলো। ধনী-গরিব কোন ভেদাভেদ ছিলো না। বর্তমানে আধুনিক জীবন যাপনের ইচ্ছা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ মাটির বাড়ি ঘর ভেঙ্গে পাকা বাড়ি তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

 

মাটির ঘরের বাসিন্দা এম এ বাতেন খান বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলোও যুগের বিবর্তনে অধিকাংশই মানুষ মাটির ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তার জন্য পাকা ঘর তৈরি করছে। বাপ দাদার আমলে মাটির ঘরের সমারোহ ছিল অফুরন্ত কিন্তু আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্থান দখল করে নিয়েছে ইট কিংবা কংক্রিটের বড় বড় অট্টালিকা, যার ফলে মাটির তৈরি ঘর আজ গ্রাম থেকে বিলুপ্ত প্রায়। বর্তমান প্রজন্ম এই মাটির ঘরের সাথে অনেকেই অপরিচিত।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন অঞ্চলের ঐতিহাসিক মাটির বাড়ি

আপডেট : ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিচ্ছে ইট-পাথরের দালান। সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো অনেক অনেক মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলেন, গরীবের এসি ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম ও খুব শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর। এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না মাটির ঘর। বেশ আগের কথা যখন গাঁও-গ্রামে দৃষ্টিনন্দন মাটির ঘর বাড়ি ছিল। মাটির ঘর দেখতে হলে গাঁও-গ্রামেই যেতে হয়তো। আর গাঁও-গ্রামেই এখনো অনেক মাটির ঘর বাড়ির দেখা মিলে না। গ্রামের অঞ্চলের লোক স্বাবলম্বী হয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করে গরীব পরিবারগুলো এখন তৈরি করছে ছোট বড় আধাপাকা বাড়ি। এক সময় দুপচাঁচিয়া উপজেলাতে প্রতিটি গ্রামে মাটির ঘর চোখে পড়তো। মাটির ঘরকে স্থানীয় ভাবে কোঠার ঘর বলে থাকেন অনেকেই। তবে সামান্য কয়েকটি জায়গা ছাড়া এখন আর কোথাও এ ঘর দেখা যায় না। আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের বিবর্তনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ চিরচেনা মাটির ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। গত কয়েক বছর ধরে মাটির ঘর নতুন করে কেউ আর তৈরি করছেন না। ইট, বালুর সহজলভ্যতার কারণে এবং গরিব মানুষ গুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিরায়ত বাংলার মাটির তৈরি এসব ঘর।

 

মাটির ঘরের কারিগর জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে মাটির ঘর বানানোর জন্য সময় পেতাম না। একটি ঘর বানানোর পর পরই আরোটিতে কাজে লাগতে হতো। কিন্তু এখন আর এগুলো বানাই না। সবাই এখন পাকা, আধা-পাকা কিংবা টিনের ঘর বানায়। এক একটি মাটির ঘরগুলো বানাতে মাস খানেক সময় লেগে যেতো। তবে এক মাসে প্রায় ৪-৬টি ঘরের কাজ করতাম।

 

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার আট গ্রামের নগরপাড়ার মো মজনু খাঁন বাড়িতে সেই পুরোনো স্মৃতিভরা শান্তির নীড় মাটির ঘর দেখা যায়। মো. মজনু খাঁন জানান, এই ঘর আমার দাদার ছিল। সে মারা যাওয়ার পর আমার বাবা থাকতেন। এখনও ঘরটি রয়েছে। দাদার পুরোনো স্মৃতি ধরে রাখতে এখনো মাটির ঘর রেখে দিয়েছি। তবে যুগের সাথে তাল মেলাতে এখন অনেকে ইটের ঘর তৈরি করছে, তাই ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর।

 

বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম নগরপাড়ার নাহিদ হাসান জানান, এক সময় প্রায় বাড়িতেই মাটির ঘর ছিলো। ধনী-গরিব কোন ভেদাভেদ ছিলো না। বর্তমানে আধুনিক জীবন যাপনের ইচ্ছা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ মাটির বাড়ি ঘর ভেঙ্গে পাকা বাড়ি তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

 

মাটির ঘরের বাসিন্দা এম এ বাতেন খান বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলোও যুগের বিবর্তনে অধিকাংশই মানুষ মাটির ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তার জন্য পাকা ঘর তৈরি করছে। বাপ দাদার আমলে মাটির ঘরের সমারোহ ছিল অফুরন্ত কিন্তু আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্থান দখল করে নিয়েছে ইট কিংবা কংক্রিটের বড় বড় অট্টালিকা, যার ফলে মাটির তৈরি ঘর আজ গ্রাম থেকে বিলুপ্ত প্রায়। বর্তমান প্রজন্ম এই মাটির ঘরের সাথে অনেকেই অপরিচিত।