কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (২৯ জুন) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান।
তিনি বলেন, প্রধান আসামি ফজর আলীকে (৩৬) আজ ভোর পাঁচটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ ও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রধান আসামি ফজর আলী
এর আগে রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অন্য ৩জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—সুমন, রমজান, মো. আরিফ ও মো. অনিক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায়। বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ জুন রাতে মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর পাঁচকিট্টা গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ফজর আলীর বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করেন। তবে তিনি তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীর একটি ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।
এই ঘটনায় গত শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) নামের এক ব্যক্তি তার বাবার বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়িতে অনেক শব্দ হচ্ছিল। আমি ভয়ে দৌড়ে গিয়ে লোকজন ডেকে নিয়ে আসি। লোকজন গিয়ে দেখেন দরজা ভাঙা। পরে আমরা ওই নারীকে উদ্ধার করি। এ সময় কিছু লোক ফজর আলীকে মারধর ও ভিডিও করেন। পরে তারা বুঝতে পারেন ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ফজরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’ ওই হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়ে যান। পরে আজ তাকে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মোঃ আনজার শাহ 


















