ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শহীদ জিয়ার শিক্ষাদর্শন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মম হত্যাকাণ্ড: হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার মোরেলগঞ্জের নাঈমের মরদেহ, বিচার চায় এলাকাবাসী

 

খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে নির্মমভাবে নিহত মোরেলগঞ্জের যুবক মো. নাঈম মোল্লার (২৭) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

নাঈম বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের পায়লাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে ‘পাইপ ফিটার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২২ মে বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে শিপইয়ার্ডের মেইন গেটের পাশেই ফেলে রেখে যায়। পরদিন শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুকুরের চিৎকারে ঘুম ভাঙা এক বাসিন্দা লাশটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মুখমণ্ডল মোড়ানো ছিল পলিথিনে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

 

পরদিন, ২৪ মে শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

 

নাঈমের চাচাতো ভাই মো. জাহিদ মোল্লা জানান, “আমরা একসাথে খুলনা শিপইয়ার্ডে ১০ বছর ধরে কাজ করছি। তার কর্মস্থলে কোনো শত্রু ছিল না। তবে কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে একটি আইফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়, এবং তাকে জরিমানাও গুণতে হয়েছিল। পরিবার ধারণা করছে, সেই ঘটনাই হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।”

 

এদিকে শিপইয়ার্ড এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাঈমের স্বজন ও এলাকাবাসী। কারণ, নাঈম যে লেবার শেড কলোনিতে থাকতেন, সেটি সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত একটি সুরক্ষিত এলাকা। পরিবার বলছে, পুলিশ যদি সময়মতো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে, তবে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব।

 

ঘটনার তদন্তে লবণচরা থানা পুলিশ ছাড়াও সিআইডি ও পিবিআই-এর বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। তবে এখনো পর্যন্ত হত্যার মোটিভ কিংবা অভিযুক্তদের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নাঈমের মা হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। যেন আর কোনো মা এরকমভাবে সন্তান হারিয়ে কষ্ট না পায়।” এই হত্যাকাণ্ডে খুলনার শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকরাও আতঙ্কিত। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধে শিল্প এলাকায় নিয়মিত টহল, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত আছে। তবে উত্তর এখনও অজানা – এটি কি তুচ্ছ একটি বিরোধের পরিণতি, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? সেই উত্তরের অপেক্ষায় নাঈমের পরিবার ও এলাকাবাসী।

জনপ্রিয়

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মম হত্যাকাণ্ড: হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার মোরেলগঞ্জের নাঈমের মরদেহ, বিচার চায় এলাকাবাসী

আপডেট : ১২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে নির্মমভাবে নিহত মোরেলগঞ্জের যুবক মো. নাঈম মোল্লার (২৭) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

নাঈম বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের পায়লাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে ‘পাইপ ফিটার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২২ মে বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে শিপইয়ার্ডের মেইন গেটের পাশেই ফেলে রেখে যায়। পরদিন শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুকুরের চিৎকারে ঘুম ভাঙা এক বাসিন্দা লাশটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মুখমণ্ডল মোড়ানো ছিল পলিথিনে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

 

পরদিন, ২৪ মে শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

 

নাঈমের চাচাতো ভাই মো. জাহিদ মোল্লা জানান, “আমরা একসাথে খুলনা শিপইয়ার্ডে ১০ বছর ধরে কাজ করছি। তার কর্মস্থলে কোনো শত্রু ছিল না। তবে কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে একটি আইফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়, এবং তাকে জরিমানাও গুণতে হয়েছিল। পরিবার ধারণা করছে, সেই ঘটনাই হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।”

 

এদিকে শিপইয়ার্ড এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাঈমের স্বজন ও এলাকাবাসী। কারণ, নাঈম যে লেবার শেড কলোনিতে থাকতেন, সেটি সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত একটি সুরক্ষিত এলাকা। পরিবার বলছে, পুলিশ যদি সময়মতো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে, তবে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব।

 

ঘটনার তদন্তে লবণচরা থানা পুলিশ ছাড়াও সিআইডি ও পিবিআই-এর বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। তবে এখনো পর্যন্ত হত্যার মোটিভ কিংবা অভিযুক্তদের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নাঈমের মা হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। যেন আর কোনো মা এরকমভাবে সন্তান হারিয়ে কষ্ট না পায়।” এই হত্যাকাণ্ডে খুলনার শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকরাও আতঙ্কিত। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধে শিল্প এলাকায় নিয়মিত টহল, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত আছে। তবে উত্তর এখনও অজানা – এটি কি তুচ্ছ একটি বিরোধের পরিণতি, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? সেই উত্তরের অপেক্ষায় নাঈমের পরিবার ও এলাকাবাসী।