খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে নির্মমভাবে নিহত মোরেলগঞ্জের যুবক মো. নাঈম মোল্লার (২৭) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নাঈম বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের পায়লাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে ‘পাইপ ফিটার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২২ মে বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে শিপইয়ার্ডের মেইন গেটের পাশেই ফেলে রেখে যায়। পরদিন শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুকুরের চিৎকারে ঘুম ভাঙা এক বাসিন্দা লাশটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মুখমণ্ডল মোড়ানো ছিল পলিথিনে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পরদিন, ২৪ মে শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নাঈমের চাচাতো ভাই মো. জাহিদ মোল্লা জানান, “আমরা একসাথে খুলনা শিপইয়ার্ডে ১০ বছর ধরে কাজ করছি। তার কর্মস্থলে কোনো শত্রু ছিল না। তবে কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে একটি আইফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়, এবং তাকে জরিমানাও গুণতে হয়েছিল। পরিবার ধারণা করছে, সেই ঘটনাই হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।”
এদিকে শিপইয়ার্ড এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাঈমের স্বজন ও এলাকাবাসী। কারণ, নাঈম যে লেবার শেড কলোনিতে থাকতেন, সেটি সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত একটি সুরক্ষিত এলাকা। পরিবার বলছে, পুলিশ যদি সময়মতো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে, তবে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব।
ঘটনার তদন্তে লবণচরা থানা পুলিশ ছাড়াও সিআইডি ও পিবিআই-এর বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। তবে এখনো পর্যন্ত হত্যার মোটিভ কিংবা অভিযুক্তদের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নাঈমের মা হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। যেন আর কোনো মা এরকমভাবে সন্তান হারিয়ে কষ্ট না পায়।” এই হত্যাকাণ্ডে খুলনার শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকরাও আতঙ্কিত। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধে শিল্প এলাকায় নিয়মিত টহল, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত আছে। তবে উত্তর এখনও অজানা – এটি কি তুচ্ছ একটি বিরোধের পরিণতি, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? সেই উত্তরের অপেক্ষায় নাঈমের পরিবার ও এলাকাবাসী।

মো. নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ 


















