ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রুমানের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সাতক্ষীরার আলোচিত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার হাইকোর্ট ও শিল্পকলার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পল্লবীতে বাসে আগুন আট দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, নিরাপত্তা জোরদারে দুই শতাধিক চেকপোস্ট জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিম হত্যায় আটক ৩ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি টেকনাফে প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার ভোলায় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

পুলিশকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই মামলায় ফেঁসে গেলেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোল্লা শাওন

 

সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মানহানিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে এবার পুলিশকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

ঝালকাঠি থানার মামলা নম্বর-৩৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/২১১/৪০৬/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মো. রিয়াজ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি আদালতের একটি ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য এএসআই মোহিত দেউলকাঠী এলাকায় যান। ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের ওয়ারেন্টে নাম থাকা দেউলকাঠি গ্রামের মহসিনের পুত্র আজাদ খান নামের ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নেওয়া হলে ওই নামে একজনের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তবে পুলিশ তাকে না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মোল্লা শাওন ওই আজাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং তার ব্যাংকসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়া সম্ভব। এ কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর পুলিশ সদস্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আজাদ খানকে এএসআই মোহিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে প্ররোচিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আজাদকে বলা হয়—এএসআই মোহিত তার চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ধাওয়ায় আহত হওয়ার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি ও এক্স-রে করানোর বিষয়েও তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আজাদ খান পুলিশের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে মামলার বাদীপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল মোল্লা শাওনের পরিকল্পিত কারসাজি ও শেখানো কথা। পুলিশ অফিসার মোহিত ঘুষ বাবদ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন—এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে আজাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন মোল্লা শাওন এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর ফন্দি আঁটেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. আজাদ খান বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় মামলা করেন।

ঝালকাঠি থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার দেউলকাঠী গ্রামের মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রুজু করে এসআই মো. রিয়াজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

তবে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে এ ঘটনায় নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলার খবর জানতে পেরে তিনি গাঢাকা দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রুমানের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ

পুলিশকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই মামলায় ফেঁসে গেলেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোল্লা শাওন

আপডেট : ১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মানহানিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে এবার পুলিশকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

ঝালকাঠি থানার মামলা নম্বর-৩৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/২১১/৪০৬/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মো. রিয়াজ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি আদালতের একটি ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য এএসআই মোহিত দেউলকাঠী এলাকায় যান। ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের ওয়ারেন্টে নাম থাকা দেউলকাঠি গ্রামের মহসিনের পুত্র আজাদ খান নামের ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নেওয়া হলে ওই নামে একজনের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তবে পুলিশ তাকে না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মোল্লা শাওন ওই আজাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং তার ব্যাংকসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়া সম্ভব। এ কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর পুলিশ সদস্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আজাদ খানকে এএসআই মোহিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে প্ররোচিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আজাদকে বলা হয়—এএসআই মোহিত তার চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের ধাওয়ায় আহত হওয়ার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি ও এক্স-রে করানোর বিষয়েও তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আজাদ খান পুলিশের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে মামলার বাদীপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল মোল্লা শাওনের পরিকল্পিত কারসাজি ও শেখানো কথা। পুলিশ অফিসার মোহিত ঘুষ বাবদ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন—এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে আজাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন মোল্লা শাওন এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর ফন্দি আঁটেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. আজাদ খান বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় মামলা করেন।

ঝালকাঠি থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার দেউলকাঠী গ্রামের মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রুজু করে এসআই মো. রিয়াজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

তবে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে এ ঘটনায় নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলার খবর জানতে পেরে তিনি গাঢাকা দিয়েছেন।