পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, পিরোজপুর জেলা শাখা মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক শেখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আব্দুল হক খানাকুনিয়ারী পি.ই.আর.সি. ফাজিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং একই সাথে পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগসমূহ–
চাকরির নামে অর্থ আত্মসাৎ: গত পাঁচ বছরে অন্তত ১০ জন চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হলেও কাউকে চাকরি দেওয়া হয়নি, এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
জমি আত্মসাৎ ও হুমকি: সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের পাশাপাশি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুয়া তথ্যে সরকারি সুবিধা গ্রহণ: মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও সরকারি দপ্তরে ভুয়া ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মনিরা জেসমিন অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তিনি চাকরি বা অর্থ কিছুই পাননি। একইভাবে আতিকুর রহমান জানান, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত মেলেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সংবাদ সম্মেলনে মো. মানিক শেখ, আব্দুর রাজ্জাক, আতিকুর রহমান, মনিরা জেসমিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধিঃ 


















