নীলফামারীর জলঢাকায় জমির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা নিয়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে।
সরেজমিন ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলনা কালীগঞ্জ এলাকার মৃত রবিউল আলমের ছেলে আব্দুল করিম শাহ ওরফে বাবু এবং তাঁর প্রতিবেশী মৃত কছির উদ্দিন ওরফে কাল্টুর ছেলে আব্দুস সাত্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধই একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার দিন আব্দুল করিম শাহের ফসলি জমিতে হিংসাত্মকভাবে পরিত্যক্ত (ঘাস ও পানা) ময়লা-আবর্জনা ফেলেন প্রতিপক্ষ আব্দুস সাত্তার। এতে বাধা দিতে গেলে আব্দুল করিম শাহের ছেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে রিয়াদ হাসান ও মোজাহার হোসেন আহত হন। অন্যদিকে, নিজেদের কোদালের আঘাত লেগে প্রতিপক্ষের আব্দুস সাত্তারসহ আরও ২ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল করিম শাহ ওরফে বাবু অভিযোগ করে বলেন, “আব্দুস সাত্তার আমার জমিতে ময়লা ফেলে ফসলি ধান নষ্ট করেন। আমার ছেলে বাধা দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে পুলিশ সদস্য হওয়ায় তাঁদের প্রভাবে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ঘটনার দিন আব্দুস সাত্তার নিজেই কোদাল নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের লোকজনের নিজেদের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় সেই কোদাল লেগেই আব্দুস সাত্তার আহত হন। এখন বিষয়টি আমাদের ওপর চাপিয়ে হয়রানি করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। এছাড়া প্রতিপক্ষের আনোয়ার হোসেন ও সাঈদী হোসেন পুলিশ সদস্য হওয়ায় আমাদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছেন।”
সরেজমিনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতিপক্ষের দুইজন পুলিশ সদস্য থাকায় তাঁরা এলাকায় প্রভাব খাটান এবং তাঁদের ভয়ে সাধারণ মানুষ কথা বলতে চান না। অপরদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য একাধিক মাধ্যমে চেষ্টা করেও প্রতিপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রবিউল ইসলাম রাজ, জলঢাকা প্রতিনিধিঃ 


















