রাজধানীর উত্তরায় ‘আলফা প্রডাক্ট’-এর ম্যানেজার (অ্যাডমিন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) অমিত হালদারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার এজাহারে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হলেও, প্রতিষ্ঠানের দাবি—বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে হিসাব যাচাই শেষে এই অংকের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অমিত হালদার দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে ‘আলফা প্রডাক্ট’-এর অ্যাডমিন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মো. সাইদুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট ২০২৬ থাইল্যান্ড যান। যাওয়ার আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বাক্ষরিত চেকবইসহ বিভিন্ন নথিপত্র অমিত হালদারের জিম্মায় রেখে যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান অফিস থেকে বাসায় চলে যান। পরদিন ১৩ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে অফিসে এসে তিনি অমিত হালদারকে দেখতে না পেয়ে তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন; কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। পরবর্তীতে অমিতের ডেস্কে গিয়ে দেখা যায়—গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেকবই এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিষয়টি জানানো হলে বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা পাওনা অর্থ প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে অমিত হালদার তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রূপান্তর করেন।
এজাহারের তথ্যমতে, একটি প্রাইম ব্যাংক পিএলসি হিসাবে ৮৮ লাখ টাকা এবং একটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি হিসাবে ৩০ লাখ টাকা—অর্থাৎ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকা, বিকাশ হিসাবে ৪০ হাজার টাকা, নগদ হিসাবে ৩০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদে নেওয়া ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মাধ্যমে আরও ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও নগদ অর্থসহ ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ‘আলফা প্রডাক্ট’-এর পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ২৭, তারিখ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্মারক নম্বর: ৭২৪৭(৫)/১)। মামলার পরই অমিত হালদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন এককভাবে সংঘটিত হয়েছে নাকি এর পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যাংক লেনদেন, চেকের ব্যবহার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাবপত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
উত্তরা এলাকার ব্যবসায়ী মহলে এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















