সংগৃহীত ছবি
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে (২০ আগস্ট) প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মাত্র ২৯ বছর বয়সে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন মহান এই বীর।
দিবসটি উপলক্ষে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতি আলোচনা সভা এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত জীবন ও বীরত্বগাথা:
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের “মোবারক লজ”-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে, যা বর্তমানে তাঁর নামানুসারে “মতিউরনগর” নামে পরিচিত। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
তিনি ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ (PAF) কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। এরপর তিনি করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) এয়ার বেসের ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার অদম্য ইচ্ছায় ২৩ এপ্রিল তিনি ঢাকায় আসেন এবং ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান। কর্মস্থলে ফিরে একটি যুদ্ধবিমান দখল করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় তিনি বিমানটির সেফটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট ২১ বছর বয়সী শিক্ষানবিশ পাইলট রাশেদ মিনহাজের টি-৩৩ (T-33) প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেন তিনি।
পাকিস্তানি অপর যুদ্ধবিমানগুলোর বাধা ও বিমানে থাকা রাশেদ মিনহাজের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মতিউর রহমানের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। দেশপ্রেমে আত্মত্যাগের এই অনন্য দৃষ্টান্তের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















