ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

কচুয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

বাগেরহাটের কচুয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ধোপাখালি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদেরকে আসামী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সাবেক এই ছাত্রনেতা সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে, ধোপাখালি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মাঝি ও আব্দুল কাদেরের ভাই বাবু মাঝি উপস্থিত ছিলেন।

 

আব্দুল কাদের কচুয়া উপজেলার মাধবকাঠি গ্রামের আতিকুর রহমান হাওলাদারের ছেলে। তার দাবি, তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ধোপাখালি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে ১৪টি ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা মামলা ছিল। এসব মামলায় তিনি অন্তত ৪বার কারাভোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

 

আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আড়িয়ামর্দন গ্রামের ছালাম শেখ নামের এক ব্যক্তি কচুয়া থানায় নাশকতা (বিশেষ ক্ষমতা আইনে) মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে ৩২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন, তিনি ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানেন না।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আমি হামলার শিকার হয়েছি, মামলা খেয়েছি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমার নামে মিথ্যা মামলা হচ্ছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই মামলা থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

 

আব্দুল কাদের হাওলাদার এসময় এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন। মামলায় শুধু আব্দুল কাদের নয় বিএনপির অন্তত ১৫ জন কর্মীকে আসামী করা হয়েছে বলে জানান সংবাদ সম্মেলনকারীরা।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকনসহ এজাহারনামীয় ৯৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামী করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সাইনবোর্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এবং আসামীরা একত্রিত হয়ে ছাত্রজনতাকে ফাসানোর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকে। আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরন ঘটায় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিক গুলি ছোড়ে। কারাগারে থাকা কচুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাবুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাইনবোর্ড এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সাইনবোর্ড এলাকায় কোন স্থাপনা ধ্বংস বা বোমা বিস্ফোরণ অথবা গুলির ঘটনা ঘটেনি। লোকজন জড়ো হওয়ার খবরও জানেন না তিনি।

 

মামলায় বিএনপির লোকদের আসামী করার বিষয়ে মুঠোফোনে মামলার বাদী মোঃ সালাম শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপতত এ বিষয়ে কোন কথা বলব না।

 

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামীম আহমেদ খান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পরে বলা যাবে কাদের সম্পৃক্ততা, আর নেই।

জনপ্রিয়

সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা

কচুয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

 

বাগেরহাটের কচুয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ধোপাখালি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদেরকে আসামী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সাবেক এই ছাত্রনেতা সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে, ধোপাখালি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মাঝি ও আব্দুল কাদেরের ভাই বাবু মাঝি উপস্থিত ছিলেন।

 

আব্দুল কাদের কচুয়া উপজেলার মাধবকাঠি গ্রামের আতিকুর রহমান হাওলাদারের ছেলে। তার দাবি, তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ধোপাখালি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে ১৪টি ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা মামলা ছিল। এসব মামলায় তিনি অন্তত ৪বার কারাভোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

 

আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আড়িয়ামর্দন গ্রামের ছালাম শেখ নামের এক ব্যক্তি কচুয়া থানায় নাশকতা (বিশেষ ক্ষমতা আইনে) মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে ৩২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন, তিনি ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানেন না।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আমি হামলার শিকার হয়েছি, মামলা খেয়েছি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমার নামে মিথ্যা মামলা হচ্ছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই মামলা থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

 

আব্দুল কাদের হাওলাদার এসময় এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন। মামলায় শুধু আব্দুল কাদের নয় বিএনপির অন্তত ১৫ জন কর্মীকে আসামী করা হয়েছে বলে জানান সংবাদ সম্মেলনকারীরা।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকনসহ এজাহারনামীয় ৯৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামী করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সাইনবোর্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এবং আসামীরা একত্রিত হয়ে ছাত্রজনতাকে ফাসানোর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকে। আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরন ঘটায় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিক গুলি ছোড়ে। কারাগারে থাকা কচুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাবুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাইনবোর্ড এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সাইনবোর্ড এলাকায় কোন স্থাপনা ধ্বংস বা বোমা বিস্ফোরণ অথবা গুলির ঘটনা ঘটেনি। লোকজন জড়ো হওয়ার খবরও জানেন না তিনি।

 

মামলায় বিএনপির লোকদের আসামী করার বিষয়ে মুঠোফোনে মামলার বাদী মোঃ সালাম শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপতত এ বিষয়ে কোন কথা বলব না।

 

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামীম আহমেদ খান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পরে বলা যাবে কাদের সম্পৃক্ততা, আর নেই।