বাংলাদেশের ইতিহাসে হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি কি প্রথম- এমন প্রশ্ন করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পেতে করা আপিলের শুনানির সময় এ প্রশ্ন করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটাই ইতিহাসে প্রথম ঘটনা, যাতে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে।’
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক। তাকে সহযোগিতা করছেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন প্রমুখ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানিতে আছেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
আদালতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, সহকারী সেক্রোটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উপস্থিত রয়েছেন।
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যখন থেকে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন ইস্যুতে হাত দিয়েছে, তখন থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের অপেক্ষায় ইসি।
জামায়াতের প্রতীক নিয়ে ইসি আইনজীবী আদালতকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর জামায়াতের প্রতীক দাড়িপাল্লা বাদ দেয় ইসি। নতুন করে কোনো প্রতীকের জন্য চাইলে আবেদন করতে পারবে জামায়াত।
পরে আদালত মামলার শুনানি আগামীকাল বুধবার (১৪ মে) পর্যন্ত মুলতবির আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৭ মে আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন সংক্রান্ত আপিলের শুনানির জন্য ১৩ মে (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করে।
তারও আগে, ১২ মার্চ এ বিষয়ে আপিল শুনানি শুরু হলেও এরপর আর কার্যক্রম এগোয়নি। তবে সর্বশেষ গত ৭ মে আপিল বিভাগ নতুন করে শুনানির দিন ধার্য করে।
গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পেতে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে সাময়িক নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। পরের বছর বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের ওই সাময়িক নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

সংবাদ৩৬০ ডেস্কঃ 


















