সংগৃহীত ছবি
পিরোজপুর জেলার সদর থানার আলোচিত বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, হত্যার চেষ্টা, চুরি, অবৈধ সমাবেশ ও ভাঙচুর মামলার আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী নাছির ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার ভাংগা প্রেস থেকে রোববার (১১ মে) বিকাল সাড়ে ৪টায় গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিগত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে পিরোজপুর জেলায় গড়ে তুলেছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। এই আলোচিত সন্ত্রাসী নিজের স্বার্থের জন্য তার মামা কৃষক লীগের পিরোজপুর জেলার সভাপতি চান মিয়া মাঝিকে ব্যবহার করে একেক সময় একেক নেতার ছত্রছায়ায় পিরোজপুরে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, মাদক ব্যাবসা, জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা, বয়োস্কদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা ছিল তার প্রধান কাজ। এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী পিরোজপুরের মাফিয়া এলজিইডির কাজ না করে বিল ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাটকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ ও ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এর পা চাটা কুত্তা হিসাবেও তার পরিচিত ছিলো সকলের মুখেমুখে। অবৈধ ক্ষমতার দাপটে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন হাওলাদারের পা মাটিতেই পরতনা। এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীর গ্রেফতারের খবরে তার নিজ এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিস্টি বিতরণ করেছে জনগণ।
জানা গেছে, পিরোজপুর সদর থানায় গত ৭ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. চান মিয়া মাঝিসহ ১০ জনের নামে হত্যার পরিকল্পনা, ঘর ভাঙচুর, লুটপাট, গুলিবর্ষন ও বোমা বিস্ফোরণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম কলিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় চান মিয়া মাঝি ছাড়াও মুরাদ হোসেন মাঝি, মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হারুনুর রশিদ বাদশা, মো. মাসুদ মাঝি, রশিদ শাহরিয়ার মাঝি, লোকমান হোসেন হাওলাদার, মহিউদ্দিন হাওলাদার ঝন্টু, সামশুদ্দিন কালু, মো. সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকসহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ হয়, আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে আলহাজ শামীম বিন সাঈদী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার নির্বাচনের পক্ষে তৎকালীন জেলা বিএনপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম কলিম নির্বাচন করতে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের দুর্গাপুরের বাড়িতে এলে আওয়ামী কৃষক লীগের পিরোজপুর জেলা সভাপতি চান মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ২০১৮ মালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ২০/২৫ জন অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের চান মিয়া মাঝির বাড়ির সামনের ব্রীজের ঢালে তার (মো:জহিরুল ইসলাম কলিম) গাড়ি থামিয়ে গাড়ি ভাংচুর করে এবং গাড়ির মধ্যে থাকা ধানের শীষ প্রতীকের পোষ্টার ও লিফলেট ছিনিয়ে নেয়। এসময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জেলা কৃষক লীগের সভাপতি চান মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ৫০/৬০জন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, হকিস্টিক ও দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে মো: জহিরুল ইসলাম কলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা কলিমের বাড়ির সামনে বন্দুক ও পিস্তল দিয়ে ২০/২৫ রাউন্ড গুলি ও ৮/১০টি বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে ঘরে প্রধান ফটক দাও দিয়ে কুপিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে ভাংচুর ও স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও মালামাল লুটপাট করে নেয়। এসময় তারা কলিমের বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং কলিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরে জীবন বাঁচাতে কলিম পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) ইফাদ বাবু জানান, পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো: রবিউল ইসলাম স্যারের পাঠানো মামলা নং ০৪/৬২ তারিখঃ ০৭-০৪-২০২৫ ইং ধারা-৩৪১/ ৩০৭/ ৪২৭/ ৩৮০/ ৩৮৫/ ৫০৬ পেনাল কোড পিরোজপুরের আসামিকে গ্রেফতারের জন্য আমার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি রিকুইজিশনে পাঠায় আমি আমার ওসি স্যারের নির্দেশে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভাংগা প্রেস এলাকা থেকে মামলার ২নং আসামি নাছিরকে সাড়ে ৪টায় গ্রেফতার করি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরক ও চাঁদাবাজি মামলার দুই নম্বর আসামি যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজকে পিরোজপুর আদালতে পাঠানোর পরে আদালত আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মোঃ আনজার শাহ 


















