ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শহীদ জিয়ার শিক্ষাদর্শন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর

হাসিনা-জয়-পুতুল-রেহানাসহ ২০১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

ফাইল ছবি

 

সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও বোন শেখ রেহানাসহ ২০১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি শাহবাগ থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুল ইসলাম পুলিশ প্রতিবেদনের আলোকে এ আদেশ প্রদান করেন।

 

এর আগে গত ২৩ মার্চ একই আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন ফ্যাসিস্ট উৎখাত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের চ্যাপ্টারের সভাপতি এম এ হাশেম রাজু। শুনানি শেষে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অত্র মামলার ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানায় কোন নিয়মিত মামলা চলমান আছে কি না তৎমর্মে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওসি শাহবাগকে নির্দশ দেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী এম এ হাশেম রাজু।

 

মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামিরা হলেন- শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ ফজলে নুর তাপস, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মসিউর রহমান, ড.গওহর রিজভী, ড.তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, হারুন অর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, নাঈমুল ইসলাম খান, নঈম নিজাম, শ্যামল দত্ত, সুভাষ সিংহ রায়।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় স্বৈরাচারী হাসিনার বিদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন এক দফা বাস্তবায়নের দাবীতে অত্র মামলার বাদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হইতে অত্র মামলার ঘটনাস্থল পরিবাগ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর সামনের মোড়ে এসে পৌঁছালে পূর্ব হইতে ওঁৎপেতে থাকা অত্র মামলার আসামী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীগন ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী পুলিশ সহকারে ভিকটিম ও তাহার সঙ্গীসাথীদের অবরোধ করে। আসামীরা বাদী এবং ভিকটিম সহ অন্যান্য ছাত্র জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষন করে, আহত করে, হাতবোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেল বিস্ফোরন ও নিক্ষেপ করে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিসের কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে ও ছররা গুলিতে অত্র মামলার ২নং সাক্ষী এবং ভিকটিম এর ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহার ডান চোখের ভেতরে পেলেট গান তথা ছররা গুলি ঢুকে পড়ে। ভিকটিম আহত চোখ নিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়িলে অজ্ঞাতনামা ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ সদস্যরা ভিকটিমকে বেদম পিটুনি দিতে থাকে। ভিকটিমের চোখে ছররা গুলি ঢুকার এবং মারধোরের দৃশ্য নিকট হইতে প্রত্যক্ষ করেন অত্র মামলার বাদী। তিনি আহত ভিকটিমকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করিলে তাহার ভর্তি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিধায় ভিকটিম চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে বাদীর সহযোগিতায় ভিকটিমকে গোপনে চট্টগ্রাম চলে যান। পরবর্তীতে হাসিনা পতনের সংবাদ জানিতে পেরে ভিকটিম বিগত ৫ আগষ্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে ভর্তি হোন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিগত ৭ আগষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে ১১ আগষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হোন। সেখানে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য চিকিৎসার জন্য সিএমএইচ ভর্তি হোন বিগত ২২ আগষ্ট সেবা নেন। এবং সেখানে বিগত ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা নেন। এ বিষয় নিয়ে বাদী শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

জনপ্রিয়

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত

হাসিনা-জয়-পুতুল-রেহানাসহ ২০১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

আপডেট : ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
ফাইল ছবি

 

সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও বোন শেখ রেহানাসহ ২০১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি শাহবাগ থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুল ইসলাম পুলিশ প্রতিবেদনের আলোকে এ আদেশ প্রদান করেন।

 

এর আগে গত ২৩ মার্চ একই আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন ফ্যাসিস্ট উৎখাত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের চ্যাপ্টারের সভাপতি এম এ হাশেম রাজু। শুনানি শেষে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অত্র মামলার ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানায় কোন নিয়মিত মামলা চলমান আছে কি না তৎমর্মে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওসি শাহবাগকে নির্দশ দেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী এম এ হাশেম রাজু।

 

মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামিরা হলেন- শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ ফজলে নুর তাপস, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মসিউর রহমান, ড.গওহর রিজভী, ড.তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, হারুন অর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, নাঈমুল ইসলাম খান, নঈম নিজাম, শ্যামল দত্ত, সুভাষ সিংহ রায়।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় স্বৈরাচারী হাসিনার বিদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন এক দফা বাস্তবায়নের দাবীতে অত্র মামলার বাদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হইতে অত্র মামলার ঘটনাস্থল পরিবাগ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর সামনের মোড়ে এসে পৌঁছালে পূর্ব হইতে ওঁৎপেতে থাকা অত্র মামলার আসামী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীগন ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী পুলিশ সহকারে ভিকটিম ও তাহার সঙ্গীসাথীদের অবরোধ করে। আসামীরা বাদী এবং ভিকটিম সহ অন্যান্য ছাত্র জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষন করে, আহত করে, হাতবোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেল বিস্ফোরন ও নিক্ষেপ করে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিসের কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে ও ছররা গুলিতে অত্র মামলার ২নং সাক্ষী এবং ভিকটিম এর ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহার ডান চোখের ভেতরে পেলেট গান তথা ছররা গুলি ঢুকে পড়ে। ভিকটিম আহত চোখ নিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়িলে অজ্ঞাতনামা ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ সদস্যরা ভিকটিমকে বেদম পিটুনি দিতে থাকে। ভিকটিমের চোখে ছররা গুলি ঢুকার এবং মারধোরের দৃশ্য নিকট হইতে প্রত্যক্ষ করেন অত্র মামলার বাদী। তিনি আহত ভিকটিমকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করিলে তাহার ভর্তি নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিধায় ভিকটিম চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে বাদীর সহযোগিতায় ভিকটিমকে গোপনে চট্টগ্রাম চলে যান। পরবর্তীতে হাসিনা পতনের সংবাদ জানিতে পেরে ভিকটিম বিগত ৫ আগষ্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে ভর্তি হোন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিগত ৭ আগষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে ১১ আগষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হোন। সেখানে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য চিকিৎসার জন্য সিএমএইচ ভর্তি হোন বিগত ২২ আগষ্ট সেবা নেন। এবং সেখানে বিগত ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা নেন। এ বিষয় নিয়ে বাদী শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।