ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শহীদ জিয়ার শিক্ষাদর্শন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর

শহীদ মিনার সংলগ্ন পরিত্যক্ত ডোপা বাড়ি যেন মাদকের আখরা

 

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শহীদ মিনারের পাশের পরিত্যক্ত ডোপা বাড়িটি এখন মাদকের আখরা তথা মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই পরিত্যক্ত ভবনটি গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের আখড়ায় রূপ নিয়েছে। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি না থাকায় বিষয়টি দিন দিন আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

 

প্রতিদিন দুপুর এবং সন্ধ্যার পর এই স্থানে জড়ো হয় একদল মধ্যবয়সী মাদকাসক্ত ও উঠতি বয়সী তরুণ, যাদের অনেকে আবার স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এসব তরুণ কেবল মাদক সেবনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আগের ও পরের সময়গুলোতে এই স্থানটিতে মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

 

 

লোকমুখে জানা যায়, অতীতে এই এলাকায় পথচারীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “বাড়িটির অবস্থান শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি মাদকসেবীদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে আছে। প্রশাসন যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

 

এ প্রসঙ্গে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম মুঠোফোনে বলেন, দ“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকসেবীদের এই স্পটের বিষয়ে আমাদের কেউ আগে কখনো জানায়নি। আমরা যখন অভিযান পরিচালনার জন্য পৌঁছাই, তারা আগেভাগেই কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে আমাদের অভিযান পূর্বেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

 

স্থানীয়দের মতে, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি। তা না হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে ও তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।

জনপ্রিয়

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত

শহীদ মিনার সংলগ্ন পরিত্যক্ত ডোপা বাড়ি যেন মাদকের আখরা

আপডেট : ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শহীদ মিনারের পাশের পরিত্যক্ত ডোপা বাড়িটি এখন মাদকের আখরা তথা মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই পরিত্যক্ত ভবনটি গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের আখড়ায় রূপ নিয়েছে। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি না থাকায় বিষয়টি দিন দিন আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

 

প্রতিদিন দুপুর এবং সন্ধ্যার পর এই স্থানে জড়ো হয় একদল মধ্যবয়সী মাদকাসক্ত ও উঠতি বয়সী তরুণ, যাদের অনেকে আবার স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এসব তরুণ কেবল মাদক সেবনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আগের ও পরের সময়গুলোতে এই স্থানটিতে মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

 

 

লোকমুখে জানা যায়, অতীতে এই এলাকায় পথচারীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “বাড়িটির অবস্থান শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি মাদকসেবীদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে আছে। প্রশাসন যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

 

এ প্রসঙ্গে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম মুঠোফোনে বলেন, দ“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকসেবীদের এই স্পটের বিষয়ে আমাদের কেউ আগে কখনো জানায়নি। আমরা যখন অভিযান পরিচালনার জন্য পৌঁছাই, তারা আগেভাগেই কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে আমাদের অভিযান পূর্বেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

 

স্থানীয়দের মতে, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি। তা না হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে ও তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।