সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে একদল যুবক। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতার বাসায়ও হামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হামলাকারীরা ছাত্রদল ও যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে নগরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামানের বাসায় অন্তত – ৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক তরুণ এ হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে। বাসায় আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারের কেউ থাকেন না। দুজন তা দেখাশোনা করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কে বা কারা এটা করেছে, তা জানার চেষ্টা করছি।’
এদিকে শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এর বাসভবনের ‘ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্টের কার্যালয়’ এবং মেজরটিলা এলাকায় অবস্থিত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় রুহেলের বাসায় হামলার সময় তার মা ও বোন বাসায় ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাড়ির ড্রইং রুমসহ সব কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন আসবাবের কাচ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক আসবাবপত্র ওলটপালট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আলমারি, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, এসিও, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০- ৪০ জন তরুণ নগরের ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন। এতে ছাত্রদলের কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তারা হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে দেখেছেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় পরবর্তীতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওই ৩ নেতার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। আনোয়ারুজ্জামান ৫ আগস্টের পরপর যুক্তরাজ্যে চলে যান। এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো তার বাসায় হামলা ও ভাংচুর হয়। অপরদিকে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ভারতে রয়েছেন। রুহেল আহমেদও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

সংবাদ360 প্রতিবেদকঃ 



















