ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ প্রভু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ চলছে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।
তিনি বলেন, একটি অভিযোগের রিক্যুইজিশনের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তাকে নির্ধারিত থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জনসভার পর ৩০ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মো. ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে এ মামলা দায়ের হয়।
এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় লংমার্চের ঘোষণাও দিয়েছিল সনাতনী জাগরণ মঞ্চ। পরে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
মামলার পরই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন- রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাশ।
মামলার আসামিরা হলেন- পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), নগরীর প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী (৪৮), গোপাল দাশ টিপু (৩৮), ডা. কথক দাশ (৪০), প্রকৌশলী অমিত ধর (৩৮), রনি দাশ (৩৮), রাজীব দাশ (৩২), কৃষ্ণ কুমার দত্ত (৫২), জিকু চৌধুরী (৪০), নিউটন দে ববি (৩৮), তুষার চক্রবর্তী রাজীব (২৮), মিথুন দে (৩৫), রুপন ধর (৩৫), রিমন দত্ত (২৮), সুকান্ত দাশ (২৮), বিশ্বজিৎ গুপ্ত (৪২), রাজেশ চৌধুরী (২৮) এবং হৃদয় দাস (২৫)। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত রমেন রায় বলেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে ডিবি আটক করে। এর প্রতিবাদে আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক লাঠি হাতে এসে আমাদের উপরে হামলা চালায়। এ সময় আমি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে আমাদের কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেছে।’

আহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা অঙ্কুর ঘোষ নামে আরেকজন বলেন, ‘হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কারা হামলা করেছে তা জানি না।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ ফারুক বলেন, ‘শাহবাগ থেকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা চিন্ময় কৃষ্ণের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ360 প্রতিবেদকঃ 



















