ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ ও র‍্যালি ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি পিরোজপুরের নাজিরপুরে উন্নয়নবঞ্চিত সড়ক পরিদর্শন, তালিকা প্রস্তুত টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৪ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত এমপিপুত্রকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার রামপাল নাগরিক ফোরামের সভা ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ​ নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য

ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি

 

ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি। জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ থাকলেও কাক্সিক্ষত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ভোলার তিনটি ক্ষেত্রের ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলেও সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাবে গত তিন দশকে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। গত সরকারের আমলে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা, ইকোমিক জোনসহ গ্যাসভিত্তিক নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তেমন কোনো প্রতিফল ঘটেনি। সম্প্রতি জাতীয় সংদের বাজেট অধিবেশনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলায় শিল্পপার্ক করার ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ জেলার বাসিন্দারা।

 

তবে বিগত দিনের মতো আশ্বাসের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স। যেখানে মজুদ আছে প্রায় দুই টিসিএফ (দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস। প্রায় ১৪ বছর পর ২০০৯ সালে শুরু হয় সেই গ্যাসের বাণিজ্যিক উত্তোলন। বর্তমানে এ ক্ষেত্র থেকে দৈনিক উত্তোলন ক্ষমতা ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট। ব্যবহার শেষে উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ভোলা নর্থ ও ২০২৩ সালে ইলিশা-১ নামের আবিষ্কৃত ক্ষেত্র দুটি থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়নি এখনো।

 

জানা গেছে, সারা দেশে গ্যাসের সংকট থাকলেও এখানে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অলস পড়ে রয়েছে। বিগত সরকার  সার কারখানা, ইপিজেড, এলএনজি স্টেশনসহ শিল্পায়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য বিগত দিনে অনেক আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ক্ষমতাসীনরা শুধু ভোলার মানুষকে আশ্বাসের মাধ্যমে খুশি রেখেছেন। সম্প্রতি গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ভোলাতেই ‘শিল্পপার্ক’ করার ঘোষণা দিলে হতাশা কেটে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। গ্যাস সম্পদ ঘিরে দ্বীপবাসীর উন্নয়নের স্বপ্ন অনেক দিনের। এখানকার গ্যাস শুধু উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার গড়ে তুলবে শিল্প, বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এমন প্রত্যাশা এখন ভোলার ২০ লাখ মানুষের।

 

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা সভাপতি মো. সোলাইমান বলেন, শিল্প-কারখানা করার সব পরিবেশ ভোলায় রয়েছে। বিগত দিনে বহু উদ্যোক্তা এসেছেন। কিন্তু পরে তার বাস্তবায়ন হয়নি।

 

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. জুয়েল জানান, ‘গত ১৭ বছর আমরা শুধু আশ্বাস শুনেছি ইকোনমিক জোন হবে, মিল-কারখানা হবে। বাস্তবে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে কর্মকর্তারা এসে সরেজমিন দেখে গেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন উদ্যোক্তারা যখন ভোলায় এসেছেন, তখন বিশেষ শ্রেণি সিন্ডিকেট করে জমির দাম বাড়িয়েছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে উদ্যাক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে যেন এমন কোনো সিন্ডিকেট শিল্প-কারখানা স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেটি কঠোর হাতে দমন করবে হবে।’

 

ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, গ্যাস শুধু বরিশাল পর্যন্ত নিতেই এক হাজার ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এত টাকা খরচ না করে ভোলাকেই শিল্পায়ন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে ভোলার মানুষের পাশাপাশি দেশের মানুষ উপকৃত হবে। অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে-এটা প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে সার কারখানা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, ইপিজেড, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

 

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম খান বলেন, সম্পদের তুলনায় ভোলা উন্নয়নের সূচকে পিছিয়ে রয়েছে। এখন সময় এসেছে ভোলার উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার।

 

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান বলেন, গ্যাসভিত্তিক উন্নয়ন ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন জমি বরাদ্দসহ যা যা প্রয়োজন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ছোট ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি ভারী ইন্ডাস্ট্রি করার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ ও র‍্যালি

ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি

আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে

 

ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি। জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ থাকলেও কাক্সিক্ষত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ভোলার তিনটি ক্ষেত্রের ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলেও সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাবে গত তিন দশকে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। গত সরকারের আমলে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা, ইকোমিক জোনসহ গ্যাসভিত্তিক নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তেমন কোনো প্রতিফল ঘটেনি। সম্প্রতি জাতীয় সংদের বাজেট অধিবেশনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলায় শিল্পপার্ক করার ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এ জেলার বাসিন্দারা।

 

তবে বিগত দিনের মতো আশ্বাসের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স। যেখানে মজুদ আছে প্রায় দুই টিসিএফ (দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস। প্রায় ১৪ বছর পর ২০০৯ সালে শুরু হয় সেই গ্যাসের বাণিজ্যিক উত্তোলন। বর্তমানে এ ক্ষেত্র থেকে দৈনিক উত্তোলন ক্ষমতা ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট। ব্যবহার শেষে উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ভোলা নর্থ ও ২০২৩ সালে ইলিশা-১ নামের আবিষ্কৃত ক্ষেত্র দুটি থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়নি এখনো।

 

জানা গেছে, সারা দেশে গ্যাসের সংকট থাকলেও এখানে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অলস পড়ে রয়েছে। বিগত সরকার  সার কারখানা, ইপিজেড, এলএনজি স্টেশনসহ শিল্পায়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য বিগত দিনে অনেক আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ক্ষমতাসীনরা শুধু ভোলার মানুষকে আশ্বাসের মাধ্যমে খুশি রেখেছেন। সম্প্রতি গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ভোলাতেই ‘শিল্পপার্ক’ করার ঘোষণা দিলে হতাশা কেটে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। গ্যাস সম্পদ ঘিরে দ্বীপবাসীর উন্নয়নের স্বপ্ন অনেক দিনের। এখানকার গ্যাস শুধু উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার গড়ে তুলবে শিল্প, বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এমন প্রত্যাশা এখন ভোলার ২০ লাখ মানুষের।

 

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা সভাপতি মো. সোলাইমান বলেন, শিল্প-কারখানা করার সব পরিবেশ ভোলায় রয়েছে। বিগত দিনে বহু উদ্যোক্তা এসেছেন। কিন্তু পরে তার বাস্তবায়ন হয়নি।

 

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. জুয়েল জানান, ‘গত ১৭ বছর আমরা শুধু আশ্বাস শুনেছি ইকোনমিক জোন হবে, মিল-কারখানা হবে। বাস্তবে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে কর্মকর্তারা এসে সরেজমিন দেখে গেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন উদ্যোক্তারা যখন ভোলায় এসেছেন, তখন বিশেষ শ্রেণি সিন্ডিকেট করে জমির দাম বাড়িয়েছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে উদ্যাক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে যেন এমন কোনো সিন্ডিকেট শিল্প-কারখানা স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেটি কঠোর হাতে দমন করবে হবে।’

 

ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, গ্যাস শুধু বরিশাল পর্যন্ত নিতেই এক হাজার ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এত টাকা খরচ না করে ভোলাকেই শিল্পায়ন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে ভোলার মানুষের পাশাপাশি দেশের মানুষ উপকৃত হবে। অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে-এটা প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে সার কারখানা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, ইপিজেড, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

 

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম খান বলেন, সম্পদের তুলনায় ভোলা উন্নয়নের সূচকে পিছিয়ে রয়েছে। এখন সময় এসেছে ভোলার উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার।

 

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান বলেন, গ্যাসভিত্তিক উন্নয়ন ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন জমি বরাদ্দসহ যা যা প্রয়োজন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ছোট ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি ভারী ইন্ডাস্ট্রি করার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।