লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন | সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে নিহত হয়েছেন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা গ্রামে তার গ্রামের বাড়ি। সেখানে চলছে শোকের মাতম।
লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ারের মরদেহ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজ বাড়িতে আনার পরে জানাজার নামাজ শেষে সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
নিহত এই সেনা কর্মকর্তা টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে গত ২০২২ সালের ৮ জুন আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন তানজিম ছারোয়ার।
গতকাল সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পায় সেনাবাহিনী। পরে দ্রুত চকরিয়া ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযানে যায়। আনুমানিক ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ারের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে এই সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। ভাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় একমাত্র বোন সূচি। নির্জনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সবাই।
নির্জনের মামা আশরাফ আলী খান বলেন, “মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় সেনাবাহিনী থেকে ফোন করে আমাদের জানানো হয় নির্জন অসুস্থ, আপনারা চট্টগ্রাম আসেন। আমরা রওনা হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত গেলে তারা আবার ফোন করে নির্জনের মৃত্যুর খবর জানান।”
ঘাটাইল এরিয়ার ১৯ পদাতিক ডিবিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ মাসীহুর রহমান বলেন, “নির্জন খুব সাহসী ছিলো। তার এই ঘটনায় দেশের আইন অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

সংবাদ360 প্রতিবেদক 



















