ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ মোরেলগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন বন্ধ শিল্পকারখানা সচল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা মোরেলগঞ্জে বেতকাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা অফিস নগরবাসীর হাঁটার মৌলিক অধিকার বনাম অবৈধ দখল বাণিজ্য: ঢাকার ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি পদক্ষেপ টেকনাফের চার পুলিশ স্থাপনা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিন্দা বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী আইসিসিবিতে ফার্নিচার মেলা, ৩২৩ স্টলে পণ্যের সমাহার তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় নৌ-পুলিশ

নেছারাবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঝুলছে বঙ্গবন্ধুর ছবি, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ঝুলিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারি অফিস কক্ষগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত হলেও এখানে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকী ব্যক্তিত্বের ছবি টানানো হয়েছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব প্রকাশ করে।

 

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধুমাত্র একপক্ষের ছবি ঝুলিয়ে রাখলে তা অন্য দলের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য তৈরি করে। তারা দাবি জানান, দেশের ইতিহাসে অবদান রাখা সব জাতীয় নেতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এককভাবে বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার ছবি টানিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব রক্ষা করেনি। আমরা এর বিরোধিতা করি।

 

সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল কবির বলেন, পদাধিকার বলে আমি ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক যদি বঙ্গবন্ধুর ছবি না সরায় আমরা কি করতে পারি। তবুও আমাদের স্কুলের সরকারি শিক্ষকরা একাধিকবার ছবি সরানোর কথা বলেছিলাম তিনি তা শুনেননি।

 

সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা শামীমা ইয়াছমিন বলেন, আমার বাবা মইনুদ্দিন মাস্টার একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা; আমি ছবি নামাবো না; কেউ যদি অপসারণ করে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ের ধারণ করি ও ভালোবাসি। তার অপমান কখনোই চাইবো না।

 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ছবি সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানানো বাধ্যতামূলক। ছবি সরানোর কোন প্রজ্ঞাপন নেই। যদি কেউ এ নিয়ে অসন্তুষ্ট হন, তাহলে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপত্তি জানাতে পারেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে নেছারাবাদ উপজেলায় কোন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো নেই। শুধুমাত্র সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ছবি ঝুলানো দেখা গিয়েছে।

জনপ্রিয়

ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

নেছারাবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঝুলছে বঙ্গবন্ধুর ছবি, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

আপডেট : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ঝুলিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারি অফিস কক্ষগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত হলেও এখানে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকী ব্যক্তিত্বের ছবি টানানো হয়েছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব প্রকাশ করে।

 

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধুমাত্র একপক্ষের ছবি ঝুলিয়ে রাখলে তা অন্য দলের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য তৈরি করে। তারা দাবি জানান, দেশের ইতিহাসে অবদান রাখা সব জাতীয় নেতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এককভাবে বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার ছবি টানিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব রক্ষা করেনি। আমরা এর বিরোধিতা করি।

 

সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল কবির বলেন, পদাধিকার বলে আমি ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক যদি বঙ্গবন্ধুর ছবি না সরায় আমরা কি করতে পারি। তবুও আমাদের স্কুলের সরকারি শিক্ষকরা একাধিকবার ছবি সরানোর কথা বলেছিলাম তিনি তা শুনেননি।

 

সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা শামীমা ইয়াছমিন বলেন, আমার বাবা মইনুদ্দিন মাস্টার একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা; আমি ছবি নামাবো না; কেউ যদি অপসারণ করে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ের ধারণ করি ও ভালোবাসি। তার অপমান কখনোই চাইবো না।

 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ছবি সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানানো বাধ্যতামূলক। ছবি সরানোর কোন প্রজ্ঞাপন নেই। যদি কেউ এ নিয়ে অসন্তুষ্ট হন, তাহলে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপত্তি জানাতে পারেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে নেছারাবাদ উপজেলায় কোন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো নেই। শুধুমাত্র সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ছবি ঝুলানো দেখা গিয়েছে।