মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি কে, এম, রুবেলসহ বাবু মৃধা ও মামুন আজাদ নামের ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা করেছে চট্টগ্রামের পেশাদার সাংবাদিকসহ মানবাধিকার নেতৃবৃন্দরা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা সংলগ্ন চারুলতা রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দর শাখা কমিটির সভাপতি জাফরুল ইসলাম জাহিদের সভাপতিত্বে উক্ত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি কে, এম রুবেল।
প্রতিবাদ সভায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক কে, এম রুবেল বলেন আমার পেশা সাংবাদিকতা, বাবু হাওলাদার নামক এক যুবক নিখোঁজ ঘটনার খবর শুনে আমরা ৫-৬ জন সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়া বাবু হাওলাদারের মা পারুল বেগমের অনুরোধে ইপিজেড় থানা থেকে বাদী মোমিনুল হকের বাসার সামনে যাই ওখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে ইপিজেড থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সুমন দে মোমিনুল হক ও তার ছেলে তানিম কে জিজ্ঞাসাবাদ করে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন অবস্থায় মোমিনুল হকের ছেলে তানিম কয়েকজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে পুলিশের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ও সাংবাদিকদের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় পরে মোবাইল ফিরিয়ে দেয়।
নিখোঁজ হওয়া বাবু হাওলাদারের মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন মামলার বাদী মোমিনুল হক হলেন নৌ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, তিনি ইপিজেড় থানা এলাকার ধূর্ত ও এক নামকরা মামলাবাজ। আমি বাগেরহাটে মানুষের বাসায় কাজ করে আমার জীবন জীবিকা নির্বাহ করি। আমার একমাত্র ছেলে বাবু হাওলাদার চাকুরী সন্ধানে চট্টগ্রামে আসে সে মোমিনুল হকের ভাড়া বাসায় ওঠে। সে বাসা ভাড়া নেওয়ার কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে বাড়িতে চলে আসে আবার গত মাসের ১৯ জুন চট্টগ্রামে তার ভাড়া বাসায় চলে যায়, বাবু হাওলাদার বাসায় গিয়ে দেখে তার বাসায় রেখে যাওয়া কোনো আসবাবপত্র বাসায় নেই পরে খোঁজাখুঁজি করার পর বাবু হাওলাদার জানতে পারে তার ঘরের আসবাবপত্র মোমিনুল হকের নেশাগ্রস্ত ছেলে তানিম মাদক সেবনের টাকার জন্য বাবু হাওলাদারের ঘরের আসবাব পত্র বিক্রি করে দেয়, বাবু হাওলাদারের অনুমতি ছাড়া কেনো বিক্রি করছে? এ কথা জিজ্ঞেস করায় মোমিনুল হকসহ তার ছেলে তানিম বাবু হাওলাদারকে মারধর করে, পরে তাকে বাসায় আঁটকে রাখে এবং মধ্য রাতে মোমিনুল হক সাহেবের ছেলে তানিমসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে বাবু হাওলাদার কে মারতে মারতে বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এরপর থেকে বাবু হাওলাদারের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের বলেন মোমিনুল হক একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার ছেলে তানিম একজন মাদক সেবনকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী, মোমিনুল হক এ ঘটনাকে আড়াল করার জন্য নিখোঁজ হওয়া বাবু হাওলাদারকেসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
বাবু হাওলাদার নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে বাবু হাওলাদের মা পারুল বেগম ইপিজেড থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন, এ নিখোঁজ ডায়েরি তদন্ত করছেন ইপিজেড থানার এস আই সুমন দে।
উল্লেখ্য ১৯/৬/২৫ দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে যখন মোমিনুল হকের ছেলে তানিম মারতে মারতে বাবু হাওলাদারকে নিয়ে যাচ্ছে তখন বাবু হাওলাদারের কান্নায় আশে পাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যায়, তখন এ ঘটনা একই ভবনের ৩য় তলা থেকে রোকসানা নামের আরেক ভাড়াটিয়া ভিডিও করে (ভিডিও ফুটেজ আছে)। এ ঘটনা ভিডিও করায় তানিম ওই ভাড়াটিয়াকে হত্যা এবং বাসা ছেড়ে দেওয়ার ও হুমকি দেয়।
মোমিনুল হক ও তার ছেলে তানিম তাদের এ অপরাধ থেকে নিজেদেরকে সু-কৌশলে রক্ষা পেতে চট্টগ্রাম আদালতে সাংবাদিক নেতা কে, এম, রুবেলকে প্রধান ও আরো দুই সাংবাদিক বাবু মৃধা, সাংবাদিক মামুন, নিখোঁজ হওয়া বাবু হাওলাদার, এ ঘটনার সাক্ষী ৪ জনসহ মোট ৭ জনকে আসামি করে ৩২৩/ ৩৮৫/ ৩৮৬/ ৫০৬ / ৩৪ ধারা দিয়ে মামলা দায়ের করেন, যার সি আর মামলা নং ৩৪২/২০২৫ ইপিজেড থানা, উক্ত সিআর মামলা বর্তমানে তদন্ত করছেন এস আই মামুনুর রশিদ।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইম্মানুয়েল গমেজের সঞ্চলনায় উক্ত প্রতিবাদ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা বিল্লাল হোসাইন বেলাল, যুগ্ম সম্পাদক মাজেদুল আলম, ফজলুল হক মাসুদ, হাফিজুর রহমান রনি, শেখ আহম্মেদ শাকিল, আবুল খায়ের, বিধান ঘোষ লিটন, জাকির হোসেন, নার্গীস পারভীন রিক্তা, নাফাসা আজমিন, রিয়াজ উদ্দিন, আসরাফ উদ্দিন মিঠু, দিদারুল আলম বেলাল, জয়েন্ত দে, কামাল উদ্দিন, আল আমিন বেপারী, আয়মান হোসেন, তামান্না, আল আমিন, আজাদ মামুন, বাবু মৃধা প্রমুখ।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল, মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ 


















