ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শহীদ জিয়ার শিক্ষাদর্শন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর

পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে শোকের মাতম পিরোজপুরের স্বজনরা

শামীম ফকিরের পরিবার | ফাইল ছবি

 

পিরোজপুরে পরিবারের সাথে এ বছর ঈদ করবেন বাড়িতে বড় ভাইকে এমনই কথা দিয়েছিলেন শামীম । ঈদের পরে বাড়ির পাশে ভাইয়ের মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদান করে আবার ফিরবেন কর্মস্থলে। কিন্তু ঈদে বাড়িতে আসার প্রোগ্রাম বাতিল করে অফিসের বন্ধুর সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যান শামীম ফকির। বুধবার রাতে এসব কথা বলছিলেন শামীমের ভাইয়ের ছেলে পারভেজ ফকির। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। পাড়া-প্রতিবেশিরাও তাদের আহাজারিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

পারভেজ ফকির এসময়  আরও বলেন,  চাচা কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসার কথা বলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসতে পারে না। এ বছর একইভাবে ঈদ এর আগে অফিসে বসে বাড়ি আসার কথা বলেন পরিবারকে নিয়ে। কয়েক বছর পরিবারের সাথে ঈদ করা হয় না তাই এ বছর বাড়িতেই ঈদ করব। ঈদ করে বিবাহে যোগদান করে ঢাকায় ফিরব। কিন্তু গতকাল রাতে সব শেষ হয়ে গেল আমাদের। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত দশটার দিকে মোবাইলে ভিডিও কলে বাড়ির সবার সাথে সে কথা বলে। এরকম কখনো সবার সাথে সে কথা বলে না। কিন্তু গতকালকে গাড়িতে বসে সে তার ভাই ভাবিসহ পরিবারের সবার সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করে। কিন্তু এ কথাই যে তার পরিবারের সাথে শেষ কথা হবে তা কে জানত।

 

পাঁচজনের মধ্যে প্রেমা গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

 

বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের দ্রুতগতির যাত্রীবাহী একটি বাস চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার মহাসড়কের একটি বাঁকে আসে। তখন চালক ‘হার্ড ব্রেক’ করতে গেলে বাসটির সামনের অংশ ঘুরে যায়। এতে বাসটি মহাসড়কে আড়াআড়ি হয়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারগামী দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের শামীম ফকির (৪০), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (৩৪), মেয়ে আনিসা (১৪) ও ছোট মেয়ে বোনের মেয়ে তানু (১৫) মারা যায়। তার আর এক মেয়ে প্রেমা (১৩) বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

শামীম ফকির দীর্ঘদিন ঢাকার মিরপুর পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বর্তমানে চাকুরীরত রয়েছেন।

 

 

শামীম ফকিরের ভাই আসলাম ফকির বলেন, গতকালকে রাতে ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছে আমার। ঈদের ছুটিতে অফিসের আর এক কলিক ও তার পরিবার ঈদের ছুটি কাটাতে কক্সবাজার যাচ্ছে। কিন্তু বুধবার বিকেলে আমি ভাইয়ের মৃত্যু খবর পাই। আমি এখন চট্টগ্রামের পথে আমার ভাইয়ের ও তার পরিবারের সদস্যদের আনার জন্য যাচ্ছি। মঙ্গলবার রাতে যে ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হবে তা কখনো ভাবিনি।

 

আত্মীয় নাদিরা আক্তার বলেন, একটি পরিবার একসাথে এভাবে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের আত্মীয় এবং এলাকায় কখনো আগে ঘটেনি। কিন্তু আমরা এখন ভাবছি শামীমের মেয়েটি একা কিভাবে বাঁচবে। কারণ প্রেমা তো তার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছে তার জীবন কিভাবে চলবে।

 

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফুল আলম খান বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং খোঁজ নিচ্ছি তাদের লাশ কখন বাড়িতে পৌঁছাবে।

জনপ্রিয়

টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত

পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে শোকের মাতম পিরোজপুরের স্বজনরা

আপডেট : ০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
শামীম ফকিরের পরিবার | ফাইল ছবি

 

পিরোজপুরে পরিবারের সাথে এ বছর ঈদ করবেন বাড়িতে বড় ভাইকে এমনই কথা দিয়েছিলেন শামীম । ঈদের পরে বাড়ির পাশে ভাইয়ের মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদান করে আবার ফিরবেন কর্মস্থলে। কিন্তু ঈদে বাড়িতে আসার প্রোগ্রাম বাতিল করে অফিসের বন্ধুর সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যান শামীম ফকির। বুধবার রাতে এসব কথা বলছিলেন শামীমের ভাইয়ের ছেলে পারভেজ ফকির। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। পাড়া-প্রতিবেশিরাও তাদের আহাজারিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

পারভেজ ফকির এসময়  আরও বলেন,  চাচা কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসার কথা বলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসতে পারে না। এ বছর একইভাবে ঈদ এর আগে অফিসে বসে বাড়ি আসার কথা বলেন পরিবারকে নিয়ে। কয়েক বছর পরিবারের সাথে ঈদ করা হয় না তাই এ বছর বাড়িতেই ঈদ করব। ঈদ করে বিবাহে যোগদান করে ঢাকায় ফিরব। কিন্তু গতকাল রাতে সব শেষ হয়ে গেল আমাদের। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত দশটার দিকে মোবাইলে ভিডিও কলে বাড়ির সবার সাথে সে কথা বলে। এরকম কখনো সবার সাথে সে কথা বলে না। কিন্তু গতকালকে গাড়িতে বসে সে তার ভাই ভাবিসহ পরিবারের সবার সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করে। কিন্তু এ কথাই যে তার পরিবারের সাথে শেষ কথা হবে তা কে জানত।

 

পাঁচজনের মধ্যে প্রেমা গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

 

বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের দ্রুতগতির যাত্রীবাহী একটি বাস চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার মহাসড়কের একটি বাঁকে আসে। তখন চালক ‘হার্ড ব্রেক’ করতে গেলে বাসটির সামনের অংশ ঘুরে যায়। এতে বাসটি মহাসড়কে আড়াআড়ি হয়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারগামী দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের শামীম ফকির (৪০), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (৩৪), মেয়ে আনিসা (১৪) ও ছোট মেয়ে বোনের মেয়ে তানু (১৫) মারা যায়। তার আর এক মেয়ে প্রেমা (১৩) বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

শামীম ফকির দীর্ঘদিন ঢাকার মিরপুর পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বর্তমানে চাকুরীরত রয়েছেন।

 

 

শামীম ফকিরের ভাই আসলাম ফকির বলেন, গতকালকে রাতে ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছে আমার। ঈদের ছুটিতে অফিসের আর এক কলিক ও তার পরিবার ঈদের ছুটি কাটাতে কক্সবাজার যাচ্ছে। কিন্তু বুধবার বিকেলে আমি ভাইয়ের মৃত্যু খবর পাই। আমি এখন চট্টগ্রামের পথে আমার ভাইয়ের ও তার পরিবারের সদস্যদের আনার জন্য যাচ্ছি। মঙ্গলবার রাতে যে ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হবে তা কখনো ভাবিনি।

 

আত্মীয় নাদিরা আক্তার বলেন, একটি পরিবার একসাথে এভাবে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের আত্মীয় এবং এলাকায় কখনো আগে ঘটেনি। কিন্তু আমরা এখন ভাবছি শামীমের মেয়েটি একা কিভাবে বাঁচবে। কারণ প্রেমা তো তার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছে তার জীবন কিভাবে চলবে।

 

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফুল আলম খান বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং খোঁজ নিচ্ছি তাদের লাশ কখন বাড়িতে পৌঁছাবে।