কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের আগমুহূর্তে নারী-শিশুসহ ৯ জনকে উদ্ধার, ৫৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুটি সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক বহনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ও রোববার (৮ নভেম্বর) টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সী-বিচ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলকে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে বিজিবির টহল দল সেটিকে ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে মানব পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য নৌকায় উঠে সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জোরপূর্বক মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে বিজিবির তিনটি পৃথক অভিযানে ৫৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সিএনজিও জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ৭টা ২০ মিনিট পর্যন্ত লেদা ও কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। প্রশিক্ষিত কে-৯ ডগ ‘মেঘলা’র সহায়তায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও দুটি সিএনজি তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবুল বশর (৪৪), কালাম হোসেন (৪২), আব্দুস শুকুর (৫৫) ও ফয়সাল (২০) নামের চারজনকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, রোববার ভোরে নাফ নদীসংলগ্ন কেরুনতলী খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি দল কেরুনতলী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা লোকালয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, মানব পাচার, মাদক ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান কঠোর। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার ৯ জন, আটক চার ব্যক্তি এবং জব্দ করা মাদক ও যানবাহনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরহাদ রহমান, টেকনাফ প্রতিনিধিঃ 


















