ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি টেকনাফে প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার ভোলায় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা টেকনাফের গভীর সমুদ্রে ইউরিয়া সার ও নিত্যপণ্যসহ ১০ পাচারকারী আটক মোরেলগঞ্জে জমিতে ধান রোপণ নিয়ে বিরোধ, হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ভোলায় নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ পুলিশকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই মামলায় ফেঁসে গেলেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোল্লা শাওন পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাল দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী অনুমতি ছাড়াই সমাজসেবার প্রকল্প ঘর ভাঙার অভিযোগ, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দাবি

মোরেলগঞ্জে দুই বছরের শিশুকে সড়কে ফেলে পালালেন মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাত্র দুই বছরের এক শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে আবারও শিশুটিকে রাস্তায় রেখে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত অসহায় শিশুটির সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাবিবুল্লাহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জেলেপাড়ার একটি ইটভাটার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তারা এগিয়ে আসেন। শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে গেলে দাদি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সচেতন এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে নিয়ে যান।

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা বারইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. পলাশ এবং মা মোসা. মিতু আক্তার। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। শুক্রবার শিশুটির মা মিতু আক্তার শিশুটিকে সড়কের পাশে ফেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন ইউএনও মোঃ হাবিবুল্লাহ। এ সময় পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন দিনের মধ্যে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের জিম্মায় নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিশুটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ইউএনও মোঃ হাবিবুল্লাহ তাকে নিজের কোলে তুলে নেন। শিশুটির পরনে পর্যাপ্ত পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামাকাপড় এনে পরিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভালের জন্য তার ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে সবার উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়। এসময় শিশুটির তিন দিনের ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন ইউএনও।

আপনজনদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া দুই বছরের শিশুটির প্রতি প্রশাসনের এমন মানবিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
​এদিকে শিশুটির ভবিষ্যৎ অভিভাবকত্ব, নিরাপত্তা ও আইনগত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তার বাবা মো. পলাশকে আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি

মোরেলগঞ্জে দুই বছরের শিশুকে সড়কে ফেলে পালালেন মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

আপডেট : ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাত্র দুই বছরের এক শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে আবারও শিশুটিকে রাস্তায় রেখে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত অসহায় শিশুটির সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাবিবুল্লাহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জেলেপাড়ার একটি ইটভাটার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তারা এগিয়ে আসেন। শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে গেলে দাদি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সচেতন এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে নিয়ে যান।

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা বারইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. পলাশ এবং মা মোসা. মিতু আক্তার। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। শুক্রবার শিশুটির মা মিতু আক্তার শিশুটিকে সড়কের পাশে ফেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন ইউএনও মোঃ হাবিবুল্লাহ। এ সময় পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন দিনের মধ্যে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের জিম্মায় নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিশুটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ইউএনও মোঃ হাবিবুল্লাহ তাকে নিজের কোলে তুলে নেন। শিশুটির পরনে পর্যাপ্ত পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামাকাপড় এনে পরিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভালের জন্য তার ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে সবার উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়। এসময় শিশুটির তিন দিনের ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন ইউএনও।

আপনজনদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া দুই বছরের শিশুটির প্রতি প্রশাসনের এমন মানবিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
​এদিকে শিশুটির ভবিষ্যৎ অভিভাবকত্ব, নিরাপত্তা ও আইনগত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তার বাবা মো. পলাশকে আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।