আজ বুধবার ১২ই রবিউল আউয়াল, পরম পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিন বা উৎসব নয়, বরং মানবজাতির ইতিহাসে এক মহাজাগতিক ও কালান্তরী আলোকচ্ছটার সূচনা। বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ দিনটি একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এক পরম আবেগ ও ভাবগাম্ভীর্যের সময়। সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালিত হচ্ছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বনবী (সা.)। তাঁর জন্মের পূর্বেই পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। অনাচার, অন্ধবিশ্বাস ও গোত্রীয় হানাহানিতে নিমজ্জিত ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’-এর যুগে শৈশব থেকেই তিনি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আলামিন উপাধিতে ভূষিত হন। বিশ্বজগতের মুক্তি ও মানবকল্যাণের চিন্তায় যুবক বয়সে তিনি মক্কার অদূরে হেরা গুহায় পরম সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে মগ্ন হতেন।
৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম ওহি নাজিল হয়। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনে তিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে সত্য, সাম্য ও একত্ববাদের আলো ছড়িয়ে দেন। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে তিনি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে তিনি মানবজাতির জন্য সর্বজনীন মানবাধিকারের রূপরেখা ঘোষণা করেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁকেই সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য পরম আশীর্বাদ ও ‘রহমাতুল লিল আলামিন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নবুয়তি দায়িত্ব সফলভাবে পালন শেষে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে এই ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
পবিত্র এই দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটির পাশাপাশি সংবাদপত্রগুলোতেও বিশেষ ছুটি ও বিশেষ সাময়িকী প্রকাশ করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানে সিরাতুন্নবী (সা.) আলোচনা, মিলাদ, দরুদ পাঠ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বরে পক্ষকালব্যাপী ঐতিহাসিক সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সারা দেশের প্রতিটি প্রান্তেই মহানবীর (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে। বিশেষ মোনাজাতে পরম করুণাময়ের দরবারে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা হচ্ছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত সত্য, অহিংসা ও মানবতার আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে লালন করাই হোক এই পবিত্র দিনের পরম শিক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















