ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের ফুলেল সংবর্ধনা বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের মতবিনিময় মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত নতুন পে স্কেল প্রদান সরকারের সময়োপযোগী প্রশংসনীয় উদ্যোগ–লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল নাজিরপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, ৩৫ ছানি রোগী শনাক্ত পিরোজপুরে কালি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফে র‌্যাব-১৫ অভিযান ৫ লাখ ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক বসতবাড়ির রাস্তা নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ৩ স্বপ্নের ঠিকানায় নতুন যাত্রা: ইজি লিভিং হারমনি টাওয়ারের শুভ উদ্বোধন ১৯ জুন

ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ও ১৫০০ কোটির পাইপলাইন: এক সাহসী উদ্যোগের গল্প

গ্রাফিক্স ছবি

 

ভোলার গ্যাস ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ১০০ এমএমএসসিএফ (mmscf) উদ্বৃত্ত গ্যাস রয়েছে, যার আমদানিযোগ্য এলএনজি (LNG) বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারলে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।

ভোলা থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রধান গ্রিড লাইনে ১০০ এমএমসিএফডি (mmcfd) গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা প্রয়োজন। যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। মাত্র ৩ দিনের সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহের মূল্য থেকেই এই পুরো নির্মাণ ব্যয় তুলে আনা সম্ভব। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এই প্রকল্প অত্যন্ত লাভজনক এবং যৌক্তিক।

অভিজ্ঞতার আলোতে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন (CPP) ​এই ধরনের জটিল পাইপলাইন নির্মাণে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান CPP (China Petroleum Pipeline Engineering)-এর সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে ১৪৬ কিলোমিটার এবং স্থলভাগে ৭৪ কিলোমিটার জুড়ে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ডাবল পাইপলাইন সফলভাবে নির্মাণ করেছে। জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে CPP-এর কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে পারেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ১ বছর আগে এসপিএম (SPM) প্রকল্পের পিডি (Project Director) এবং ইআরএল (ERL)-এর এমডি (Managing Director)-এর মাধ্যমে সিপিপি (CPP) অফিসের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

​​

ভোলা এবং এর আশপাশের নদী ও দ্বীপাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে নতুন কূপ খনন করলে ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে। যেহেতু বাংলাদেশ এখনো গভীর সমুদ্রে পুরোদমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু করেনি, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোলাকে একটি প্রধান “গ্যাস হাব” হিসেবে বিবেচনা করা সময়ের দাবি। ভোলার গ্যাসকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে খুলনা, মোংলা এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত একাধিক পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

ভোলা প্রকল্পটি একসময় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সততা ও সাহসিকতাকে পুঁজি করে, প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) হিসেবে একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় পাইপলাইন নির্মাণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কূপ খনন, এবং গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও লাভ করে প্রকল্পটি। তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নীরব সমর্থন এই কাজকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

পেট্রোবাংলার বিভিন্ন কোম্পানিতে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মেধা ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়েই ভোলার শাহবাজপুর প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

 

সততা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সাহসিকতার সাথে কাজ করলে ভোলার এই নতুন পাইপলাইন প্রকল্প থেকেও দেশ দ্রুত সুফল পাবে ইনশাআল্লাহ।

 

লেখক পরিচিতঃ
আমজাদ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাপেক্স, মহাব্যবস্থাপক (খনন) ও প্রতিষ্ঠাতা প্রকল্প পরিচালক সাহাবাজপুর গ্যাস ফিল্ড, ভোলা।
জনপ্রিয়

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের ফুলেল সংবর্ধনা

ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ও ১৫০০ কোটির পাইপলাইন: এক সাহসী উদ্যোগের গল্প

আপডেট : ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
গ্রাফিক্স ছবি

 

ভোলার গ্যাস ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ১০০ এমএমএসসিএফ (mmscf) উদ্বৃত্ত গ্যাস রয়েছে, যার আমদানিযোগ্য এলএনজি (LNG) বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারলে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।

ভোলা থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রধান গ্রিড লাইনে ১০০ এমএমসিএফডি (mmcfd) গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা প্রয়োজন। যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। মাত্র ৩ দিনের সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহের মূল্য থেকেই এই পুরো নির্মাণ ব্যয় তুলে আনা সম্ভব। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এই প্রকল্প অত্যন্ত লাভজনক এবং যৌক্তিক।

অভিজ্ঞতার আলোতে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন (CPP) ​এই ধরনের জটিল পাইপলাইন নির্মাণে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান CPP (China Petroleum Pipeline Engineering)-এর সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে ১৪৬ কিলোমিটার এবং স্থলভাগে ৭৪ কিলোমিটার জুড়ে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ডাবল পাইপলাইন সফলভাবে নির্মাণ করেছে। জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে CPP-এর কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে পারেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ১ বছর আগে এসপিএম (SPM) প্রকল্পের পিডি (Project Director) এবং ইআরএল (ERL)-এর এমডি (Managing Director)-এর মাধ্যমে সিপিপি (CPP) অফিসের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

​​

ভোলা এবং এর আশপাশের নদী ও দ্বীপাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে নতুন কূপ খনন করলে ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে। যেহেতু বাংলাদেশ এখনো গভীর সমুদ্রে পুরোদমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু করেনি, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোলাকে একটি প্রধান “গ্যাস হাব” হিসেবে বিবেচনা করা সময়ের দাবি। ভোলার গ্যাসকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে খুলনা, মোংলা এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত একাধিক পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

ভোলা প্রকল্পটি একসময় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সততা ও সাহসিকতাকে পুঁজি করে, প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) হিসেবে একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় পাইপলাইন নির্মাণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কূপ খনন, এবং গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও লাভ করে প্রকল্পটি। তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নীরব সমর্থন এই কাজকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

পেট্রোবাংলার বিভিন্ন কোম্পানিতে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মেধা ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়েই ভোলার শাহবাজপুর প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

 

সততা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সাহসিকতার সাথে কাজ করলে ভোলার এই নতুন পাইপলাইন প্রকল্প থেকেও দেশ দ্রুত সুফল পাবে ইনশাআল্লাহ।

 

লেখক পরিচিতঃ
আমজাদ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাপেক্স, মহাব্যবস্থাপক (খনন) ও প্রতিষ্ঠাতা প্রকল্প পরিচালক সাহাবাজপুর গ্যাস ফিল্ড, ভোলা।