ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বানারীপাড়ার সন্তান মাহবুব শিকদার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে–স্পীকার টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ জলঢাকায় তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মোরেলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: শিক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত, থানায় মামলা দায়ের ভোলায় তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩ বাগেরহাটে দ‌লিত জন‌গো‌ষ্ঠীর উন্নয়নে ইউপি বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবি নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন আবুল মনসুর খান দীপক যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি: মুন্না সভাপতি, নয়ন সাধারণ সম্পাদক পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় আমাদের করণীয়–লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

নিজ গ্রামে মায়ের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন তোফায়েল আহমেদ

 

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামের বাড়ির চত্বরে পৃথক ২টি জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ।

 

৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোলায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন, আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ এবং সাবেক পৌর মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

 

তারা বলেন, তোফায়েল আহমেদ কোনো একক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে পুরো ভোলাবাসীর অভিভাবক। জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানাজায় অংশ নিতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম ও সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুমেনসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

জানাজার আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পুলিশের একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় বিউগলের করুণ সুর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে জেলার ৭টি উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। এরপর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তোফায়েল আহমেদের জন্মস্থান কোরালিয়া গ্রামের বাড়ির চত্বরে। জানাজা শেষে বিকেলের দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা, মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শেষ শ্রদ্ধা জানান।

 

এদিকে জানাজা চলাকালীন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বরিশাল জোনের ডিআইজিসহ পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব সদস্যরা মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।

 

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে জেলা যুবদলের কিছু নেতাকর্মী জানাজা স্থলের কাছে স্লোগান দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও মাঠের চারপাশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

 

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বর্ণাঢ্য এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে ভোলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয়

কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বানারীপাড়ার সন্তান মাহবুব শিকদার

নিজ গ্রামে মায়ের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন তোফায়েল আহমেদ

আপডেট : ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

 

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামের বাড়ির চত্বরে পৃথক ২টি জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ।

 

৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোলায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন, আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ এবং সাবেক পৌর মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

 

তারা বলেন, তোফায়েল আহমেদ কোনো একক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে পুরো ভোলাবাসীর অভিভাবক। জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানাজায় অংশ নিতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম ও সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুমেনসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

জানাজার আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পুলিশের একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় বিউগলের করুণ সুর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে জেলার ৭টি উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। এরপর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তোফায়েল আহমেদের জন্মস্থান কোরালিয়া গ্রামের বাড়ির চত্বরে। জানাজা শেষে বিকেলের দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা, মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শেষ শ্রদ্ধা জানান।

 

এদিকে জানাজা চলাকালীন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বরিশাল জোনের ডিআইজিসহ পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব সদস্যরা মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।

 

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে জেলা যুবদলের কিছু নেতাকর্মী জানাজা স্থলের কাছে স্লোগান দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও মাঠের চারপাশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

 

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বর্ণাঢ্য এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে ভোলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।