ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বানারীপাড়ার সন্তান মাহবুব শিকদার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে–স্পীকার টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ জলঢাকায় তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মোরেলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: শিক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত, থানায় মামলা দায়ের ভোলায় তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩ বাগেরহাটে দ‌লিত জন‌গো‌ষ্ঠীর উন্নয়নে ইউপি বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবি নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন আবুল মনসুর খান দীপক যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি: মুন্না সভাপতি, নয়ন সাধারণ সম্পাদক পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় আমাদের করণীয়–লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

বাগেরহাটে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার

 

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাতেমার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে দিঘির পানি থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজার এলাকাতেই তার মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে থাকত। তার বাবার নাম নেই এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে মাজার প্রাঙ্গণেই অবস্থান করছিল।

 

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে অন্ধকার থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। পরে ভোর পৌনে ৫টার দিকে ডুবুরিরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, নিহত শিশুর মা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে জানা গেছে। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মেয়েকে নিয়ে দিঘিতে গোসল করতে নামেন। এ সময় একটি কুমির শিশুটিকে আক্রমণ করে গভীর পানিতে টেনে নিয়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের খাদেমরা জানান, সোমবার রাতে শিশু ফাতেমা দিঘির মহিলা ঘাটে হাত-মুখ ধুতে বা গোসল করতে নামে। এ সময় পানিতে ওত পেতে থাকা একটি হিংস্র কুমির হঠাৎ করে তার ওপর আক্রমণ করে এবং কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘাটের দিকে ছুটে যান। তবে মুহূর্তের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে গভীর পানিতে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।

 

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দিঘিতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, রাতের বেলা এবং কুমির হিংস্র প্রাণী হওয়ায় উদ্ধারকাজ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই ঘটনায় মাজার এলাকা এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয়

কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বানারীপাড়ার সন্তান মাহবুব শিকদার

বাগেরহাটে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

 

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাতেমার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে দিঘির পানি থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজার এলাকাতেই তার মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে থাকত। তার বাবার নাম নেই এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে মাজার প্রাঙ্গণেই অবস্থান করছিল।

 

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে অন্ধকার থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। পরে ভোর পৌনে ৫টার দিকে ডুবুরিরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, নিহত শিশুর মা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে জানা গেছে। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মেয়েকে নিয়ে দিঘিতে গোসল করতে নামেন। এ সময় একটি কুমির শিশুটিকে আক্রমণ করে গভীর পানিতে টেনে নিয়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের খাদেমরা জানান, সোমবার রাতে শিশু ফাতেমা দিঘির মহিলা ঘাটে হাত-মুখ ধুতে বা গোসল করতে নামে। এ সময় পানিতে ওত পেতে থাকা একটি হিংস্র কুমির হঠাৎ করে তার ওপর আক্রমণ করে এবং কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘাটের দিকে ছুটে যান। তবে মুহূর্তের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে গভীর পানিতে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।

 

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দিঘিতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, রাতের বেলা এবং কুমির হিংস্র প্রাণী হওয়ায় উদ্ধারকাজ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই ঘটনায় মাজার এলাকা এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।