প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জলঢাকা নীলফামারীর জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। জেলার সর্বত্র যেন রোদে খাঁ খাঁ করছে প্রকৃতি। তীব্র তাপদাহে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন, আর সামান্য স্বস্তির খোঁজে ছুটছেন গাছের ছায়ায়। কেউ কেউ ঠাণ্ডা পানীয় ও আইসক্রিম খেয়ে গরমের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ঘাম ঝরছে অবিরাম, অনেকেই ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে দিনের বেলায় কাঠফাটা রোদ বিরাজ করছে। প্রচণ্ড রোদের তাপে পুড়ছে মাঠঘাট, বাসাবাড়ি ও পথঘাট। কোথাও যেন স্বস্তির ছোঁয়া নেই। এর ফলে দাবদাহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অসহনীয় গরমে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রচণ্ড রোদ ও তাপদাহে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই অবস্থা সিএনজি, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদেরও। জীবিকার তাগিদে অনেকে ঘর থেকে বের হলেও অতিরিক্ত গরমে বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে, যা তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তীব্র গরমের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোগবালাইও বেড়েছে। ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি, মাথাব্যথাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। এ অবস্থায় অনেকেই স্বস্তির জন্য এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, গরমের কারণে ব্যবসা বেড়েছে কনফেকশনারি দোকানিদের। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন দোকানে ফ্রিজে রাখা কোমল পানীয়, আইসক্রিম, দই, শরবতসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডা খাবারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা মীরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন রিকশা স্ট্যান্ডে কথা হয় রিকশাচালক মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “তীব্র গরম আর রোদের মধ্যে রিকশা চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে কাজ করছি, কিন্তু গরমের কারণে যাত্রীও কমে গেছে।”
স্থানীয় কনফেকশনারি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, “সাম্প্রতিক তীব্র দাবদাহের কারণে ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয়ের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ বেশি করে আইসক্রিম, দই, শরবত ও বিভিন্ন পানীয় কিনছেন।”
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিদুষ চন্দ্র রায় জানান, তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং সুতি কাপড় পরিধান করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান আবহাওয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।”

আশীষ বিশ্বাস, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ 


















