ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ মোরেলগঞ্জে লবনাক্ত জমিতে থাইল্যান্ডের আম চাষে সফল কৃষক রুহুল মোমেন চিতলললমারীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ৩ মনপুরা হাসপাতালে সরকারী অ্যাম্বুলেন্স বিকল, ভ্যানগাড়িতে রোগী পরিবহনে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট, বাগেরহাটে যুবক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ টেকনাফে ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার ৫ অপহৃত শিশু-কিশোর মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী ও মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

মোরেলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেখে চোখ কপালে গ্রাহকদের

প্রতীকী ছবি

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত ইউনিট ও অস্বাভাবিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এসব অভিযোগের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মশিউর রহমান মাসুম নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করে বলেন, তার মিটারের হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ছিল ৭৬৫ টাকা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৩১৪ টাকার বিল পাঠিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যদি অধিকাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।” তার ওই পোস্টে মন্তব্য করে আরও অনেক গ্রাহক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

 

বৈশাখী টেলিভিশনের মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি মেজবাহ ফাহাদ জানান, তার বাসার স্বাভাবিক ১ হাজার ৩০০ টাকার বিল হঠাৎ ৩ হাজার ৮০৮ টাকা আসে। পরে বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে এবং সফটওয়্যারের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে সংশোধিত বিল প্রদান করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আমার ক্ষেত্রে এমন ভুল হয়ে থাকে, তাহলে অন্য অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটছে না?”

 

বারইখালির গ্রাহক গোলাম আহাদ অভিযোগ করেন, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও টানা দুই মাস তার বিল ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি এসেছে, যেখানে পরবর্তী মাসে একই ব্যবহারে বিল এসেছে মাত্র ৭৬০ টাকা।

 

অন্যদিকে মো. মেহেদী হাসান দাবি করেন, বিলে উল্লেখিত ইউনিটের সঙ্গে তার মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের মিল ছিল না। বিল হাতে পাওয়ার পর তিনি নিজে মিটার যাচাই করে অতিরিক্ত ইউনিট যুক্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন এবং পরে অফিসে গিয়ে বিল সংশোধন করান। তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা সরাসরি রিডিং না নিয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য ব্যবহার করছেন।

 

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন,অনেক সচেতন গ্রাহক বিষয়গুলো ধরতে পারলেও অধিকাংশ মানুষ বিলের হিসাব যাচাই না করেই পরিশোধ করে দেন। ফলে অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনা থাকলে তা সহজে ধরা পড়ে না।

 

এছাড়া ওয়াহিদুজ্জামান, শেখ বিথি ইসলামসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিল, ভুল রিডিং এবং অভিযোগ দিয়েও সমাধান না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

এদিকে অনেক গ্রাহক পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ও বিল সম্পর্কে গ্রাহক সরাসরি ধারণা পান এবং অতিরিক্ত বিলের আশঙ্কা কমে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয়

ঝালকাঠিতে অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

মোরেলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেখে চোখ কপালে গ্রাহকদের

আপডেট : ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
প্রতীকী ছবি

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত ইউনিট ও অস্বাভাবিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এসব অভিযোগের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মশিউর রহমান মাসুম নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করে বলেন, তার মিটারের হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ছিল ৭৬৫ টাকা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৩১৪ টাকার বিল পাঠিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যদি অধিকাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।” তার ওই পোস্টে মন্তব্য করে আরও অনেক গ্রাহক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

 

বৈশাখী টেলিভিশনের মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি মেজবাহ ফাহাদ জানান, তার বাসার স্বাভাবিক ১ হাজার ৩০০ টাকার বিল হঠাৎ ৩ হাজার ৮০৮ টাকা আসে। পরে বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে এবং সফটওয়্যারের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে সংশোধিত বিল প্রদান করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আমার ক্ষেত্রে এমন ভুল হয়ে থাকে, তাহলে অন্য অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটছে না?”

 

বারইখালির গ্রাহক গোলাম আহাদ অভিযোগ করেন, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও টানা দুই মাস তার বিল ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি এসেছে, যেখানে পরবর্তী মাসে একই ব্যবহারে বিল এসেছে মাত্র ৭৬০ টাকা।

 

অন্যদিকে মো. মেহেদী হাসান দাবি করেন, বিলে উল্লেখিত ইউনিটের সঙ্গে তার মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের মিল ছিল না। বিল হাতে পাওয়ার পর তিনি নিজে মিটার যাচাই করে অতিরিক্ত ইউনিট যুক্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন এবং পরে অফিসে গিয়ে বিল সংশোধন করান। তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা সরাসরি রিডিং না নিয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য ব্যবহার করছেন।

 

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন,অনেক সচেতন গ্রাহক বিষয়গুলো ধরতে পারলেও অধিকাংশ মানুষ বিলের হিসাব যাচাই না করেই পরিশোধ করে দেন। ফলে অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনা থাকলে তা সহজে ধরা পড়ে না।

 

এছাড়া ওয়াহিদুজ্জামান, শেখ বিথি ইসলামসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিল, ভুল রিডিং এবং অভিযোগ দিয়েও সমাধান না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

এদিকে অনেক গ্রাহক পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ও বিল সম্পর্কে গ্রাহক সরাসরি ধারণা পান এবং অতিরিক্ত বিলের আশঙ্কা কমে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।