কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১ নম্বর আগানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরাফতি গ্রামের মানুষ টানা ১৭ বছর ধরে একটি কাঁচা সড়কের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসী এখন চরম হতাশা ও ক্ষোভে সরব হয়ে উঠেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা সরকারের উচ্চমহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বেহাল সড়কে জনজীবন বিপর্যস্ত
সরেজমিনে দেখা গেছে, শরাফতি উত্তরপাড়া হাজী তৈয়ব আলী সড়কটি দক্ষিণপাড়া ধাম্মারপাড় থেকে রাজামারা হয়ে ভূঁইয়া বাড়ির সামনে দিয়ে নরিন পর্যন্ত এবং পাড়াবাপরা বাড়ি থেকে বিজয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত। অথচ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন একপ্রকার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় অসংখ্য বড় বড় গর্ত। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর মিলছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা
এই সড়কটি কেবল একটি গ্রামের যোগাযোগ পথ নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরাফতি পদুয়ারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, একাধিক মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং দুটি স্থানীয় বাজারে যাতায়াতের প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম এই রাস্তা।
শুধু শরাফতি নয়, পাশের মুগুজী ও হরিপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। প্রতি রবিবার ও বুধবার সবজিবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্ষোভ ও বঞ্চনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১৭ বছরে একাধিকবার সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই জনপদে মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসীর ভাষায়, “আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, বাস্তবে কোনো কাজ দেখিনি।”
মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
এ অবস্থায় শরাফতি গ্রামবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহয়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সড়কটি পাকা করে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে শরাফতির এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণ করে লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

মোঃ আনজার শাহ 


















