ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
পল্লবীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে জাল টাকার কারখানায় বিজিবির অভিযান, ৫১ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ২ টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের বাড়ি রাজশাহী এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

বাগেরহাটে গুলি করে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা, নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

 

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আমির হামজা (২৫)‘র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

 

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে প্রবেশ করে আমির হামজাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আমির হামজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

 

নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমির হামজার বাবা রুহুল আমিন প্রায় ২০ বছর আগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ত্যাগ করেন। আমির হামজা খুলনায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ঢাকাতেও থাকতেন। শিবপুর গ্রামে রুহুল আমিনের বাবার কোন ঘরও নেই। ঈদে বাড়িতে এসে চাচার ঘরে উঠেছিলেন।

 

হত্যার শিকার আমির হামজা খুলনার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে খুলনার রুপসা এলাকার আব্দুল বাছেদ বিকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

 

এদিকে এ ঘটনায় নিহত আমির হামজার মা মেহেরুননেসা নাছরিন বাদীয় হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। আসামীরা বাগেরহাট ও খুলনার বাসিন্দা। মামলার স্বার্থে আসামীদের নাম উল্লেখ করেননি পুলিশ।

 

শুক্রবার সকালে নিহতের বাড়িতে সুনসান নিরবতা দেখা যায়। কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির উঠোনে বসা থাকলেও, পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ঘরের মধ্যে। পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কেউ কথা বলতে চায়নি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে।

 

নিহতের ছোট ভাই আরমান মুন্সি বলেন, ঈদের দুইদিন আগে আমরা গ্রামের বাড়িতে আসছি। ঈদ করে আমাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগমুহুর্তে আমির হামজাসহ আমরা বাড়ির উঠোনে ছিলাম। হঠাৎ করে একজন গামছা বিক্রির ছদ্দবেশে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। পরক্ষনেই হেলমেট ও মাক্স পরিহিত আরও কয়েকজন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল এবং একজনের হাতে বড় শটগান ছিল। তখন আমার ভাই ঘরের মধ্যে চলে যায়, তারা আমার ভাইকে ধাওয়া করে। তার ব্যবহৃত ফোন দুটি নিয়ে নেয়। আমার ভাই দৌড়ে ছাদে চলে যায়। তারাও পিছন পিছন যায়। ছাদ থেকে লাফিয়ে রান্নাঘরের চালে এবং পরে পাশের চিত্রা নদীর মধ্যে পরে। সেখানেই তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। আমাকেও ধরার চেষ্টা করলে, আমি পালিয়ে যাই।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির চারপাশেই দু-জন তিনজনের দলে ভাগ হয়ে লোক দাড়ানো ছিল। খুব স্বল্প সময়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।

 

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমির হামজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন তার মা। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে এর আগে গেল ৭ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর ইসলাস (২৭) নামের এক যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এর ঠিক ৭দিন পর ১৪ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

জনপ্রিয়

পল্লবীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন

বাগেরহাটে গুলি করে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা, নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

আপডেট : ০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আমির হামজা (২৫)‘র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

 

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে প্রবেশ করে আমির হামজাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আমির হামজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

 

নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমির হামজার বাবা রুহুল আমিন প্রায় ২০ বছর আগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ত্যাগ করেন। আমির হামজা খুলনায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ঢাকাতেও থাকতেন। শিবপুর গ্রামে রুহুল আমিনের বাবার কোন ঘরও নেই। ঈদে বাড়িতে এসে চাচার ঘরে উঠেছিলেন।

 

হত্যার শিকার আমির হামজা খুলনার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে খুলনার রুপসা এলাকার আব্দুল বাছেদ বিকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

 

এদিকে এ ঘটনায় নিহত আমির হামজার মা মেহেরুননেসা নাছরিন বাদীয় হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। আসামীরা বাগেরহাট ও খুলনার বাসিন্দা। মামলার স্বার্থে আসামীদের নাম উল্লেখ করেননি পুলিশ।

 

শুক্রবার সকালে নিহতের বাড়িতে সুনসান নিরবতা দেখা যায়। কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির উঠোনে বসা থাকলেও, পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ঘরের মধ্যে। পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কেউ কথা বলতে চায়নি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে।

 

নিহতের ছোট ভাই আরমান মুন্সি বলেন, ঈদের দুইদিন আগে আমরা গ্রামের বাড়িতে আসছি। ঈদ করে আমাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগমুহুর্তে আমির হামজাসহ আমরা বাড়ির উঠোনে ছিলাম। হঠাৎ করে একজন গামছা বিক্রির ছদ্দবেশে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। পরক্ষনেই হেলমেট ও মাক্স পরিহিত আরও কয়েকজন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল এবং একজনের হাতে বড় শটগান ছিল। তখন আমার ভাই ঘরের মধ্যে চলে যায়, তারা আমার ভাইকে ধাওয়া করে। তার ব্যবহৃত ফোন দুটি নিয়ে নেয়। আমার ভাই দৌড়ে ছাদে চলে যায়। তারাও পিছন পিছন যায়। ছাদ থেকে লাফিয়ে রান্নাঘরের চালে এবং পরে পাশের চিত্রা নদীর মধ্যে পরে। সেখানেই তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। আমাকেও ধরার চেষ্টা করলে, আমি পালিয়ে যাই।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির চারপাশেই দু-জন তিনজনের দলে ভাগ হয়ে লোক দাড়ানো ছিল। খুব স্বল্প সময়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।

 

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমির হামজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন তার মা। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে এর আগে গেল ৭ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর ইসলাস (২৭) নামের এক যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এর ঠিক ৭দিন পর ১৪ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।