রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করছে বিআইডব্লিউটিসি। মূলত একটি ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ পরিবহনের বাসটি পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোয়া ৫টার দিকে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু করেনি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বড় হতাহতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তবে
তারা এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে ৪০ জনের মতো যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে বাসটি। পন্টুনে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছয়-সাত জন সাঁতরে তীরে উঠলেও বাকিরা নিখোঁজ আছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বাসটিতে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযান শুরু করবে। দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’
ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, “দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।”

স্টাফ রিপোর্টারঃ 



















