ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​ বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: দিপু সভাপতি, জালাল সম্পাদক নির্বাচিত টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আসামি সারজিস ও নাসীরুদ্দীন আজ উৎসবমুখর পরিবেশে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন-২০২৬ বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত খাল খননে ১ কোটি ২ লাখ টাকা সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩ অদম্য তরুণ-তরুণীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোরে ১১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান

বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামালের ফেরার সংবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষক- শিক্ষার্থী

 

বরিশালের বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেনের পুনরায় যোগদানের খবরে আতঙ্কিত স্কুলের শিক্ষকরা। আবারো বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক ও এলাকাবাসী। 

 

উপজেলার পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি প্রাচীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রোববার (১৮ মে) সকালে স্কুল চলাকালীন সময়ে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়দের অনেক ভিড়। জানা যায় স্কুলের সাবেক বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন পিছনে দরজা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

 

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, জামাল হোসেন বিদ্যালয় চাকরি করা কালীন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সর্বদা খারাপ আচরণ করাসহ একজন স্বেচ্ছাচারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা আব্দুল হাইকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করাসহ নানান হুমকি দিতেন। সাবেক প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনের এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি স্টোক করে মারা যান। উক্ত ঘটনায় মৃত আব্দুল হাইয়ের মেয়ে তার বাবার মৃত্যু জন্য প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনকে দায়ি করেন। এ সময় মেয়ে তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে সহপাঠীদের নিয়ে বিক্ষোভ করেছিল।

 

ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, তার বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক ভিজা থাকার কারণে সাধারণ পোশাক পরিধান করে স্কুলে আসায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের সামনে মেয়ে শিক্ষার্থীর পোশাক খুলে মেঝে মোছার কথা বলে লাঞ্ছনা করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, স্কুলের টিভিসহ সরকার প্রদত্ত সামগ্রী নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার, অন্য শিক্ষকদের ব্যবহার করতে না দেয়া, শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে তাদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেন যদি পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে আসে তাহলে তারা ক্লাস বর্জন করে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিবে।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পদত্যাগ পত্র দাখিল করেন। পদত্যাগ পত্র দাখিলের ১১ দিন পরে গত বছর ১৪ই সেপ্টেম্বর তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগ পত্র নেওয়া হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে বানারীপাড়া থানায় একটি জিডি করেন যার জিডি নাম্বার ৫০৯। উক্ত জিডির প্রেক্ষিতে গত বছরের ১লা অক্টোবর বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা সুমি বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্তের পরে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা চলতি মাসের ৬ তারিখে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত প্রতিবেদনে জোর করে পদত্যাগ পত্র নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের বিচারক রেনেসা খান উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্ত হয়ে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি মোঃ জামাল হোসেনের জিডি খারিজ করে দিয়েছেন। এতে করে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

জনপ্রিয়

জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​

বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামালের ফেরার সংবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষক- শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

 

বরিশালের বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেনের পুনরায় যোগদানের খবরে আতঙ্কিত স্কুলের শিক্ষকরা। আবারো বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক ও এলাকাবাসী। 

 

উপজেলার পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি প্রাচীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রোববার (১৮ মে) সকালে স্কুল চলাকালীন সময়ে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়দের অনেক ভিড়। জানা যায় স্কুলের সাবেক বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন পিছনে দরজা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

 

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, জামাল হোসেন বিদ্যালয় চাকরি করা কালীন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সর্বদা খারাপ আচরণ করাসহ একজন স্বেচ্ছাচারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা আব্দুল হাইকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করাসহ নানান হুমকি দিতেন। সাবেক প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনের এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি স্টোক করে মারা যান। উক্ত ঘটনায় মৃত আব্দুল হাইয়ের মেয়ে তার বাবার মৃত্যু জন্য প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনকে দায়ি করেন। এ সময় মেয়ে তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে সহপাঠীদের নিয়ে বিক্ষোভ করেছিল।

 

ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, তার বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক ভিজা থাকার কারণে সাধারণ পোশাক পরিধান করে স্কুলে আসায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের সামনে মেয়ে শিক্ষার্থীর পোশাক খুলে মেঝে মোছার কথা বলে লাঞ্ছনা করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, স্কুলের টিভিসহ সরকার প্রদত্ত সামগ্রী নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার, অন্য শিক্ষকদের ব্যবহার করতে না দেয়া, শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে তাদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল হোসেন যদি পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে আসে তাহলে তারা ক্লাস বর্জন করে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিবে।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পদত্যাগ পত্র দাখিল করেন। পদত্যাগ পত্র দাখিলের ১১ দিন পরে গত বছর ১৪ই সেপ্টেম্বর তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগ পত্র নেওয়া হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে বানারীপাড়া থানায় একটি জিডি করেন যার জিডি নাম্বার ৫০৯। উক্ত জিডির প্রেক্ষিতে গত বছরের ১লা অক্টোবর বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা সুমি বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্তের পরে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা চলতি মাসের ৬ তারিখে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত প্রতিবেদনে জোর করে পদত্যাগ পত্র নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের বিচারক রেনেসা খান উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্ত হয়ে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি মোঃ জামাল হোসেনের জিডি খারিজ করে দিয়েছেন। এতে করে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।