ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​ বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: দিপু সভাপতি, জালাল সম্পাদক নির্বাচিত টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আসামি সারজিস ও নাসীরুদ্দীন আজ উৎসবমুখর পরিবেশে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন-২০২৬ বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত খাল খননে ১ কোটি ২ লাখ টাকা সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩ অদম্য তরুণ-তরুণীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোরে ১১,২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান

জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বখাটেদের মারধর এবং পরবর্তীতে পরিবারের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে মিষ্টি রানী (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী জেলেপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী ওই গ্রামের ননী গোপাল (ওরফে পেলকা)-র মেয়ে এবং ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও একই এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (ওরফে লিসা)-র সাথে মিষ্টি রানীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত কয়েকদিন আগে তারা দুজনে স্থানীয় ঘুঘুমারী ‘দুয়াই-সুয়াই’ পুকুরপাড়ে দেখা করতে গেলে এলাকার কিছু বখাটে যুবক তাদের অবরুদ্ধ করে। সেখানে বখাটেরা ওই কিশোর-কিশোরীকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় ‘টটে’ নামের এক ব্যক্তি মধ্যস্থতার নামে আলমগীরের বাবার কাছ থেকে নগদ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়।

ঘটনার পরদিন মিষ্টি রানী নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে আলমগীরের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে এবং তাকেই বিয়ে করার আকুতি জানায়। এ কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে মিষ্টি রানীর ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ ওঠে। বখাটেদের প্রহার ও পরিবারের নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে অবশেষে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বখাটেদের চাঁদাবাজি-মারধর এবং পরিবারের অতি-নিয়ন্ত্রণ ও নির্মম নির্যাতনকেই এই কিশোরীর অকালমৃত্যুর পেছনে দায়ী করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মীরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ রাজু সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​

জলঢাকায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নেপথ্যে বখাটেদের মারধর ও মা-বাবার নির্যাতন! ​

আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বখাটেদের মারধর এবং পরবর্তীতে পরিবারের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে মিষ্টি রানী (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী জেলেপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী ওই গ্রামের ননী গোপাল (ওরফে পেলকা)-র মেয়ে এবং ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘুঘুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও একই এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (ওরফে লিসা)-র সাথে মিষ্টি রানীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত কয়েকদিন আগে তারা দুজনে স্থানীয় ঘুঘুমারী ‘দুয়াই-সুয়াই’ পুকুরপাড়ে দেখা করতে গেলে এলাকার কিছু বখাটে যুবক তাদের অবরুদ্ধ করে। সেখানে বখাটেরা ওই কিশোর-কিশোরীকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় ‘টটে’ নামের এক ব্যক্তি মধ্যস্থতার নামে আলমগীরের বাবার কাছ থেকে নগদ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়।

ঘটনার পরদিন মিষ্টি রানী নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে আলমগীরের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে এবং তাকেই বিয়ে করার আকুতি জানায়। এ কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে মিষ্টি রানীর ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ ওঠে। বখাটেদের প্রহার ও পরিবারের নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে অবশেষে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বখাটেদের চাঁদাবাজি-মারধর এবং পরিবারের অতি-নিয়ন্ত্রণ ও নির্মম নির্যাতনকেই এই কিশোরীর অকালমৃত্যুর পেছনে দায়ী করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মীরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ রাজু সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।