ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী আইসিসিবিতে ফার্নিচার মেলা, ৩২৩ স্টলে পণ্যের সমাহার তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় নৌ-পুলিশ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে ​ টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ ও র‍্যালি ভোলাবাসীর স্বপ্ন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি পিরোজপুরের নাজিরপুরে উন্নয়নবঞ্চিত সড়ক পরিদর্শন, তালিকা প্রস্তুত টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৪ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার মোরেলগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত এমপিপুত্রকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার

সারা জীবনের ছাত্র: একজন সাংবাদিকের আত্মজিজ্ঞাসা

 

“জ্ঞান অনন্ত, আর শেখার কোনো শেষ নেই”—এই কথাটি সাংবাদিকতা পেশায় এসে প্রতিদিন নতুন করে উপলব্ধি করি। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি নিজেকে কখনোই ‘জানা মানুষ’ ভাবতে পারি না। বরং প্রতিটি সকাল আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি এখনো শিখছি, জানছি, বেড়ে উঠছি। এ কারণেই নিজেকে ভাবি ‘সারা জীবনের ছাত্র’।

 

বিশ্ব প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। খবরের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, মাধ্যম পাল্টে যাচ্ছে, পাঠকের চাহিদাও নতুন রূপ নিচ্ছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের শিখতে হয় নতুন প্রযুক্তি, নতুন ভাষা, নতুন চিন্তা। একজন সাংবাদিক তাই কেবল তথ্য পরিবেশনের দায়ে আবদ্ধ নন; তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের ছাত্র, সমাজের ছাত্র, মানুষের ছাত্র।

 

সাংবাদিকতার প্রতিটি রিপোর্টিং, প্রতিটি অনুসন্ধান, প্রতিটি প্রশ্ন একজন সাংবাদিককে শেখায় কিছু না কিছু। একটি শিশুর কান্না, একজন বৃদ্ধার দীর্ঘশ্বাস কিংবা কোন নিভৃত পল্লীর এক মাটির ঘর—সবই শেখার উপকরণ হয়ে ওঠে। এখানে অহংকারের জায়গা নেই, আত্মপ্রসাদের সুযোগ নেই। কারণ প্রতিটি নতুন ঘটনা, নতুন অভিজ্ঞতা সাংবাদিককে নতুন করে ভাবতে শেখায়, লিখতে শেখায়, বুঝতে শেখায়।

 

সারা জীবনের ছাত্র হওয়ার মানে কেবল বই পড়ে শেখা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান আহরণ। এই মানসিকতা আমাদের করে তোলে সহনশীল, সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল। একজন প্রকৃত সাংবাদিক শুধু প্রশ্ন করতে শেখে না, সে নিজের উত্তরও খোঁজে। সেই খোঁজের যাত্রাই তাকে ‘চির শিক্ষার্থী’ করে তোলে।

 

আজ যখন সাংবাদিকতা নানান চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন প্রয়োজন এমন সাংবাদিক—যিনি শিখতে চান, বুঝতে চান, প্রশ্ন করতে ভয় পান না, এবং নিজের ভুল স্বীকার করে সংশোধনের সাহস রাখেন। সারা জীবনের ছাত্র বলেই সাংবাদিক সত্যকে ধরে রাখতে পারে, নির্ভীকভাবে তুলে ধরতে পারে মানুষের কথা।

 

এই শিক্ষার্থীসত্তাই একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবং এই পরিচয়ই তাকে করে তোলে সময়ের সাক্ষী ও বিবেক।

 

লেখক: মোঃ রাব্বী মোল্লা
(সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)
০৮-০৫-২০২৫ খ্রিঃ

জনপ্রিয়

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী

সারা জীবনের ছাত্র: একজন সাংবাদিকের আত্মজিজ্ঞাসা

আপডেট : ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

 

“জ্ঞান অনন্ত, আর শেখার কোনো শেষ নেই”—এই কথাটি সাংবাদিকতা পেশায় এসে প্রতিদিন নতুন করে উপলব্ধি করি। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি নিজেকে কখনোই ‘জানা মানুষ’ ভাবতে পারি না। বরং প্রতিটি সকাল আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি এখনো শিখছি, জানছি, বেড়ে উঠছি। এ কারণেই নিজেকে ভাবি ‘সারা জীবনের ছাত্র’।

 

বিশ্ব প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। খবরের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, মাধ্যম পাল্টে যাচ্ছে, পাঠকের চাহিদাও নতুন রূপ নিচ্ছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের শিখতে হয় নতুন প্রযুক্তি, নতুন ভাষা, নতুন চিন্তা। একজন সাংবাদিক তাই কেবল তথ্য পরিবেশনের দায়ে আবদ্ধ নন; তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের ছাত্র, সমাজের ছাত্র, মানুষের ছাত্র।

 

সাংবাদিকতার প্রতিটি রিপোর্টিং, প্রতিটি অনুসন্ধান, প্রতিটি প্রশ্ন একজন সাংবাদিককে শেখায় কিছু না কিছু। একটি শিশুর কান্না, একজন বৃদ্ধার দীর্ঘশ্বাস কিংবা কোন নিভৃত পল্লীর এক মাটির ঘর—সবই শেখার উপকরণ হয়ে ওঠে। এখানে অহংকারের জায়গা নেই, আত্মপ্রসাদের সুযোগ নেই। কারণ প্রতিটি নতুন ঘটনা, নতুন অভিজ্ঞতা সাংবাদিককে নতুন করে ভাবতে শেখায়, লিখতে শেখায়, বুঝতে শেখায়।

 

সারা জীবনের ছাত্র হওয়ার মানে কেবল বই পড়ে শেখা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান আহরণ। এই মানসিকতা আমাদের করে তোলে সহনশীল, সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল। একজন প্রকৃত সাংবাদিক শুধু প্রশ্ন করতে শেখে না, সে নিজের উত্তরও খোঁজে। সেই খোঁজের যাত্রাই তাকে ‘চির শিক্ষার্থী’ করে তোলে।

 

আজ যখন সাংবাদিকতা নানান চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন প্রয়োজন এমন সাংবাদিক—যিনি শিখতে চান, বুঝতে চান, প্রশ্ন করতে ভয় পান না, এবং নিজের ভুল স্বীকার করে সংশোধনের সাহস রাখেন। সারা জীবনের ছাত্র বলেই সাংবাদিক সত্যকে ধরে রাখতে পারে, নির্ভীকভাবে তুলে ধরতে পারে মানুষের কথা।

 

এই শিক্ষার্থীসত্তাই একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবং এই পরিচয়ই তাকে করে তোলে সময়ের সাক্ষী ও বিবেক।

 

লেখক: মোঃ রাব্বী মোল্লা
(সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)
০৮-০৫-২০২৫ খ্রিঃ