গাইবান্ধা সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফেন্সী বেগমের নামে বরাদ্দ দেওয়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় স্মার্ট কার্ড আসেনি। এখন আর তেল, চিনি পাবেন কি না, সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি। আসন্ন রোজায় কীভাবে চলবে সংসার এটাই এখন বড় চিন্তা।
ফেন্সীর মতো উপজেলার প্রায় ২৪শত ২৭ জন দরিদ্র মানুষের ফ্যামিলি কার্ড রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় স্মার্ট কার্ড না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।
অন্য ইউনিয়ন গুলোতে রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কম থাকলেও উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে এর সংখ্যা বেশি।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় স্মার্ট কার্ড না পেয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগিদের এনআইডি বা মোবাইল নাম্বার দিয়ে টিসিবির ড্যাশবোর্ডে সার্চ করলে রেজিষ্ট্রেশন হয়নি এবং সংশোধন যোগ্য নয় এমনটি দেখানো হাচ্ছে। কিন্তু কি কারণে এমন হচ্ছে জানেন না তারা।
ভুক্তভোগিরা জানান, তাদের কার্ড অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করার সময় সঠিক তথ্য দিলেও ইউনিয়ন ডিজিটাল কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনেও হতে পারে বলে অভিযোগ করেন তারা। কিন্তু কার্ড রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় দায় নিতে চাইছে না ইউনিয়ন পরিষদ গুলো।
ভরতখালী ইউনিয়ন ডিজিটাল কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, টিসিবি অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের সময় উপকারভোগীরা যেভাবে তথ্য দিয়েছে সেভাবে অনলাইলে রেজিষ্ট্রেশন আপডেট করা হয়েছে। কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন করার সময় যারা প্রয়োজনীয় কাগজ , এনআইডি কার্ড, নমীনির তথ্য, মোবাইল নাম্বার দেয়নি বা টিসিবির কার্ড অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন নীতিমালার মধ্যে পরেনি তাদের স্মার্ট কার্ড আসেনি, তবে এখন নতুন করে তথ্য দিলে আপডেট করার অপশন আছে।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল জানান, যাদের রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় স্মার্ট কার্ড আসেনি এর মধ্যে যেগুলো তথ্য সংশোধন যোগ্য সেগুলো সংশোধনে দেয়া হয়েছে, আর যে গুলো সংশোধন যোগ্য নয় সেগুলো নতুন করে যুক্ত কারার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসহাক আলীর জানান, উপজেলায় প্রায় ২১ হাজারের মতো টিসিবি কার্ড বরাদ্দ। এর মধ্যে ২৪শত ২৭ জনের মতো রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় স্মার্ট কার্ড আসেনি। স্মার্ট কার্ড না আসার কারন উপকারভোগীর তথ্যে ভুল, এনআইডি নাম্বর বা মেবাইলের নাম্বার এরকম কিছু ত্রুটির কারণে এমন হয়েছে। তবে যাঁদের রেজিষ্ট্রেশন জটিলতা কার্ড আসেনি, চিন্তার কারন নেই, তাঁরা নতুন করে তথ্য সাবমিট করলে যে শূন্য স্থান আছে, সেখানে নতুন করে উপকারভোগী নেওয়া হবে। আর ইউনিয়ন ডিজিটাল কর্মকর্তাদের যদি গাফিলতি করণে এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানুয়ারি ২০২৫ থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন উপকারভোগী সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল এবং চিনি ক্রয় করতে পারেন।

ইমন মিয়া, গাইবান্ধাঃ 



















