চলতি রবি মৌসুমে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৩শ’ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে সমলয় পদ্ধতিতে ১শ’ ২ জাতের ধান চাষ। এ পদ্ধতিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক খরচে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এ নিয়ে চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর কুমার মজুমদার, এস.এম ফেরদৌস ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার ৫নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রায় ১৪ লাখ টাকা ভর্তুকি দেবে। কৃষক সংকটের কারণে যন্ত্রনির্ভর এ পদ্ধতিতে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকিতে মোরেলগঞ্জে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে সমলয় পদ্ধতি। শ্রমিক সংকটের কারণে এ পদ্ধতির চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। যথাসময়ে শ্রমিক বা কৃষক না পাওয়ায় অনেকের জমি পতিত থেকে যায়। এ সমস্যার কারণে পাশাপাশি থাকা জমির মালিকদের একত্রিত করে একই সময় জমি চাষ, প্লাস্টিক ট্রেতে বীজ তৈরি ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণের কাজ করা হয়ে থাকে। ধান কাটার সময় হলে সবার জমির ধান একই সাথে একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ভাড়া করে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করানো হয়।
সমলয় পদ্ধতিতে খরচ হচ্ছে ১০-১১ হাজার টাকা মাত্র। ভর্তুকির আওতায় থাকা দেড়শ’ বিঘা জমির জন্য এ বছর বিনামূল্যে ৩৬জন কৃষককে সাড়ে ৪ হাজার কেজি ইউরিয়া, ২ হাজার ৫০০ কেজি ডিএপি ও ২ হাজার কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে বলেও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জমির মালিকেরা শ্রমিকের অভাবে যথাসময়ে জমি চাষ করাতে পারেন না। ফসল উৎপাদনের তুলনায় খরচও বেশি পড়ে। এসব বিবেচনা করে ভর্তুকি দিয়ে সরকার পাশাপাশি থাকা সমতল জমির মালিকদের একত্রিত করে সমলয় পদ্ধতি চালু করেছে। কৃষকরা দলভুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই এ পদ্ধতিতে অর্ধেক খরচে তারা জমি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব মন্ডল বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) প্রায় ২৫ মন ধান উৎপাদন হবে। বীজতলা থেকে শুরু করে ১৫০ দিনে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে প্রতি একরে একজন কৃষকের খরচ হচ্ছে প্রায় ২২ হাজার টাকা।

সংবাদ360 ডেস্কঃ 


















