ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ টেকনাফে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমার নাগরিক আটক ২ ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রথম পর্যায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার, প্রত্যেকের এক মাসের কারাদণ্ড লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেশ্বর নদীতে যৌথ অভিযানে ৩টি অবৈধ বাধা জাল ধ্বংস মোরেলগঞ্জে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ভোলায় আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক: ভোগান্তিতে চরাঞ্চলবাসীসহ ২০ লাখ মানুষ পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে দমদমিয়া চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে চোলাই মদসহ বাস জব্দ, আটক ২

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে

 

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে। বিভাগের কৃষি অঞ্চলে এবছরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে পৌনে ৫ লাখ টনের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন কৃষি যোদ্ধাগন।

 

দেশে মুগডালের প্রায় ৮০ ভাগ এবং খেশারীর প্রায় ৫০ ভাগই বরিশালে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলের মাঠে শীতকালীন মুগ, খেশারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টন বিভিন্ন ডাল ফসল উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলে এখনো কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত হওয়ায় ডাল ফসলের উৎপাদন কাঙ্খিত মাত্রায় বাড়ছে না। বারি’র বিজ্ঞানীগন এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি ও ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন বারি’র বিজ্ঞানীগন। বারি উদ্ভাবিত এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের উৎপাদন হেক্টর প্রতি দেড় টন থেকে ২ টন পর্যন্ত। পাশাপাশি এসব ডালে আমিষের পরিমানও ২০-৩০ভাগ।

 

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। ফলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরনে একটি সস্তা উৎস্য বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন। ডাল থেকে যে পরিমান প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুন অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে ডালকে ‘গরীবের গোশত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টরে মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টরে খেশারী, ৫ হাজার হেক্টরে মুসুর ছাড়াও আরো প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে অড়হড় সহ বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে অন্তত ৫০ হাজার হেক্টরে খেশারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, প্রায় ২৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে এখনো ডালের উৎপাদন ১১ লাখ টনেরও নিচে।

 

অপরদিকে চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশাল সহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে। খেসারী ও মুগ ডালের একটি বড় অংশের আবাদ ও উৎপাদন বরিশাল সহ উপকূলীয় এলাকার চরাঞ্চলে উৎপাদন হলেও এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানী নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো দেশে ডাল জাতীয় ফসল আবাদ ও উৎপাদনে তেমন কোন নিবিড় কর্মসূচী নেই। তবে ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ডালের উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে আরো গুরুত্ব দেয়া হবে।

জনপ্রিয়

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে

আপডেট : ০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

 

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে। বিভাগের কৃষি অঞ্চলে এবছরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে পৌনে ৫ লাখ টনের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন কৃষি যোদ্ধাগন।

 

দেশে মুগডালের প্রায় ৮০ ভাগ এবং খেশারীর প্রায় ৫০ ভাগই বরিশালে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলের মাঠে শীতকালীন মুগ, খেশারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টন বিভিন্ন ডাল ফসল উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলে এখনো কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত হওয়ায় ডাল ফসলের উৎপাদন কাঙ্খিত মাত্রায় বাড়ছে না। বারি’র বিজ্ঞানীগন এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি ও ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন বারি’র বিজ্ঞানীগন। বারি উদ্ভাবিত এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের উৎপাদন হেক্টর প্রতি দেড় টন থেকে ২ টন পর্যন্ত। পাশাপাশি এসব ডালে আমিষের পরিমানও ২০-৩০ভাগ।

 

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। ফলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরনে একটি সস্তা উৎস্য বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন। ডাল থেকে যে পরিমান প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুন অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে ডালকে ‘গরীবের গোশত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টরে মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টরে খেশারী, ৫ হাজার হেক্টরে মুসুর ছাড়াও আরো প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে অড়হড় সহ বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে অন্তত ৫০ হাজার হেক্টরে খেশারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, প্রায় ২৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে এখনো ডালের উৎপাদন ১১ লাখ টনেরও নিচে।

 

অপরদিকে চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশাল সহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে। খেসারী ও মুগ ডালের একটি বড় অংশের আবাদ ও উৎপাদন বরিশাল সহ উপকূলীয় এলাকার চরাঞ্চলে উৎপাদন হলেও এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানী নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো দেশে ডাল জাতীয় ফসল আবাদ ও উৎপাদনে তেমন কোন নিবিড় কর্মসূচী নেই। তবে ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ডালের উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে আরো গুরুত্ব দেয়া হবে।