দেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলবাসীসহ প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য আজও গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক মানের ব্লাড ব্যাংক। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার অন্য নাম ব্লাড ব্যাংক। জেলায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক বা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের স্বজনদের ছুটতে হয় দিশেহারা হয়ে। সময়মতো রক্ত না পেয়ে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত ও মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি মা এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হলেও ভোলায় সরকারিভাবে আধুনিক কোনো রক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। জরুরি সময়ে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে রোগীদের মূলত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, ফেসবুকভিত্তিক ব্লাড ডোনার গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত দাতা বা ব্লাড ডোনারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেও চাহিদার তুলনায় এই ব্যক্তিগত বা স্বেচ্ছাসেবী-নির্ভরতা অনেক সময় পর্যাপ্ত হয় না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভোলার মতো একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপজেলায় জরুরি মুহূর্তে অন্য কোনো জেলা থেকে রক্ত এনে রোগীকে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এখানে দ্রুত একটি আধুনিক ও স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপ জেলা হিসেবে ভোলায় একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ ব্লাড ব্যাংক অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে এখনো এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপরও জনবল ও ব্লাড ব্যাংক অনুমোদনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছি।’
ভোলাবাসীর আশা, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ভোলায় একটি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক ও রক্তের সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে, যাতে জরুরি মুহূর্তে একটি প্রাণও রক্তের অভাবে অকালে ঝরে না পড়ে—না অবহেলিত চরাঞ্চলবাসী, না ভোলা জেলার অন্য কোনো মানুষ।

সাব্বির আলম বাবুঃ 








