ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে

 

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে। বিভাগের কৃষি অঞ্চলে এবছরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে পৌনে ৫ লাখ টনের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন কৃষি যোদ্ধাগন।

 

দেশে মুগডালের প্রায় ৮০ ভাগ এবং খেশারীর প্রায় ৫০ ভাগই বরিশালে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলের মাঠে শীতকালীন মুগ, খেশারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টন বিভিন্ন ডাল ফসল উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলে এখনো কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত হওয়ায় ডাল ফসলের উৎপাদন কাঙ্খিত মাত্রায় বাড়ছে না। বারি’র বিজ্ঞানীগন এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি ও ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন বারি’র বিজ্ঞানীগন। বারি উদ্ভাবিত এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের উৎপাদন হেক্টর প্রতি দেড় টন থেকে ২ টন পর্যন্ত। পাশাপাশি এসব ডালে আমিষের পরিমানও ২০-৩০ভাগ।

 

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। ফলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরনে একটি সস্তা উৎস্য বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন। ডাল থেকে যে পরিমান প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুন অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে ডালকে ‘গরীবের গোশত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টরে মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টরে খেশারী, ৫ হাজার হেক্টরে মুসুর ছাড়াও আরো প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে অড়হড় সহ বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে অন্তত ৫০ হাজার হেক্টরে খেশারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, প্রায় ২৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে এখনো ডালের উৎপাদন ১১ লাখ টনেরও নিচে।

 

অপরদিকে চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশাল সহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে। খেসারী ও মুগ ডালের একটি বড় অংশের আবাদ ও উৎপাদন বরিশাল সহ উপকূলীয় এলাকার চরাঞ্চলে উৎপাদন হলেও এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানী নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো দেশে ডাল জাতীয় ফসল আবাদ ও উৎপাদনে তেমন কোন নিবিড় কর্মসূচী নেই। তবে ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ডালের উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে আরো গুরুত্ব দেয়া হবে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে

আপডেট : ০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

 

বরিশালের কৃষকেরা পাঁচ লাখ টন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে। বিভাগের কৃষি অঞ্চলে এবছরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে পৌনে ৫ লাখ টনের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন কৃষি যোদ্ধাগন।

 

দেশে মুগডালের প্রায় ৮০ ভাগ এবং খেশারীর প্রায় ৫০ ভাগই বরিশালে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলের মাঠে শীতকালীন মুগ, খেশারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টন বিভিন্ন ডাল ফসল উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলে এখনো কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত হওয়ায় ডাল ফসলের উৎপাদন কাঙ্খিত মাত্রায় বাড়ছে না। বারি’র বিজ্ঞানীগন এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি ও ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন বারি’র বিজ্ঞানীগন। বারি উদ্ভাবিত এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের উৎপাদন হেক্টর প্রতি দেড় টন থেকে ২ টন পর্যন্ত। পাশাপাশি এসব ডালে আমিষের পরিমানও ২০-৩০ভাগ।

 

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। ফলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরনে একটি সস্তা উৎস্য বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন। ডাল থেকে যে পরিমান প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুন অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে ডালকে ‘গরীবের গোশত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টরে মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টরে খেশারী, ৫ হাজার হেক্টরে মুসুর ছাড়াও আরো প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে অড়হড় সহ বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে অন্তত ৫০ হাজার হেক্টরে খেশারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, প্রায় ২৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে এখনো ডালের উৎপাদন ১১ লাখ টনেরও নিচে।

 

অপরদিকে চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশাল সহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে। খেসারী ও মুগ ডালের একটি বড় অংশের আবাদ ও উৎপাদন বরিশাল সহ উপকূলীয় এলাকার চরাঞ্চলে উৎপাদন হলেও এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানী নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো দেশে ডাল জাতীয় ফসল আবাদ ও উৎপাদনে তেমন কোন নিবিড় কর্মসূচী নেই। তবে ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ডালের উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে আরো গুরুত্ব দেয়া হবে।