ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
মোংলায় ক্লোন ফিঙ্গার ব্যবহার করে বিকাশ-নগদের অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯ ঢাকার কবরস্থানে সংকট বহুমুখী, শেষ ঠিকানা ঘিরে বাড়ছে অর্থের চাপ সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোট, ১৩ জেলেকে জীবিত উদ্ধার পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা বাগেরহাটে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার কবর এদেশে হবে না’—বাবু সোমনাথ দে শাহআলী থানায় নতুন ওসি, ৪ থানার পরিদর্শককে বদলি টেকনাফে মাদক-মানবপাচারবিরোধী সমাবেশ, অপরাধীদের সতর্ক করলেন ওসি মোরেলগঞ্জের খাউলিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সালেহ খানের মতবিনিময় বাগেরহাটে তথ্য অধিকার দিবস পালন করল নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা

চরাঞ্চলে শতাধিক গরু-মহিষ চুরির অভিযোগে ভোলায় খামারিদের মানববন্ধন

 

চোর সিন্ডিকেটের আধিপত্যে ভোলার চরাঞ্চলে একের পর এক গরু-মহিষসহ গবাদিপশু চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাথান থেকে চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির নেতারা।

 

তাঁদের দাবি, চুরি যাওয়া কোনো গরু-মহিষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। চুরি বন্ধ, চোর চক্রকে গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া গরু-মহিষ উদ্ধারে উদ্যোগ এবং খামারিদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী খামারি ও মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা ভোলার চর মদনপুর, চর কালুপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঞ্চড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর, চর কাচিয়াসহ জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে তাঁরা বংশপরম্পরায় গরু-মহিষ পালন করে আসছেন। চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও চড়া দামে জমি ইজারা নিয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের সংস্থান করে তাঁরা খামার পরিচালনা করছেন। তাঁদের দাবি, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও ২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাথান থেকে প্রায় চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, চুরি বন্ধ ও প্রতিকারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া গরু-মহিষের একটিও উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা। খামারিরা বলেন, এভাবে চুরি অব্যাহত থাকলে ভোলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মহিষ পালন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে শত শত খামারি আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

মানববন্ধনে সমাজকর্মী ও ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান বাহাউদ্দিন, মহিষ মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ কৃষি ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফারাজি, সমিতির ভোলা জেলা শাখার সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মাতাব্বর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাজি, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, সদস্য মোহাম্মদ মাসুম, লিটন হাওলাদারসহ ভুক্তভোগী খামারি ও সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, ‘খামারিদের স্বপ্ন ভাঙার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে।’ দ্রুত চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং চরাঞ্চলের খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জনপ্রিয়

মোংলায় ক্লোন ফিঙ্গার ব্যবহার করে বিকাশ-নগদের অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

চরাঞ্চলে শতাধিক গরু-মহিষ চুরির অভিযোগে ভোলায় খামারিদের মানববন্ধন

আপডেট : ০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চোর সিন্ডিকেটের আধিপত্যে ভোলার চরাঞ্চলে একের পর এক গরু-মহিষসহ গবাদিপশু চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাথান থেকে চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির নেতারা।

 

তাঁদের দাবি, চুরি যাওয়া কোনো গরু-মহিষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। চুরি বন্ধ, চোর চক্রকে গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া গরু-মহিষ উদ্ধারে উদ্যোগ এবং খামারিদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী খামারি ও মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা ভোলার চর মদনপুর, চর কালুপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঞ্চড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর, চর কাচিয়াসহ জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে তাঁরা বংশপরম্পরায় গরু-মহিষ পালন করে আসছেন। চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও চড়া দামে জমি ইজারা নিয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের সংস্থান করে তাঁরা খামার পরিচালনা করছেন। তাঁদের দাবি, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও ২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাথান থেকে প্রায় চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, চুরি বন্ধ ও প্রতিকারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া গরু-মহিষের একটিও উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা। খামারিরা বলেন, এভাবে চুরি অব্যাহত থাকলে ভোলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মহিষ পালন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে শত শত খামারি আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

মানববন্ধনে সমাজকর্মী ও ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান বাহাউদ্দিন, মহিষ মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ কৃষি ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফারাজি, সমিতির ভোলা জেলা শাখার সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মাতাব্বর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাজি, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, সদস্য মোহাম্মদ মাসুম, লিটন হাওলাদারসহ ভুক্তভোগী খামারি ও সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, ‘খামারিদের স্বপ্ন ভাঙার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে।’ দ্রুত চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং চরাঞ্চলের খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।