রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমের পচা-গলা ও পোকা ধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বৃদ্ধার সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নির্ধারণের জন্য তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টার সানজিদ বলেন, ‘একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর সাতদিন ধরে তার মরদেহ এরকম অমানবিকভাবে ঘরে পড়ে ছিল, কেউ তার খোঁজখবর নিলেন না। এই মৃত্যুটি অবহেলাজনিত কারণে হয়েছে কি না, সেটি একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তদন্ত করে আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, উন্নত দেশগুলোর মতো বয়স্ক ও অচল নাগরিকদের জন্য সরকারিভাবে সেবিকা (নার্স) নিয়োগের বিধান বা প্রথা রয়েছে। বাংলাদেশের সমাজসেবা বা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের নির্দেশনাও রিটে চাওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এর আগে, গত রোববার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগম নামের ওই বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নূর জাহান বেগম যে ফ্ল্যাটে ছিলেন, সেটি তার স্কুলশিক্ষিকা মেয়ের বাসা। সেখানেই তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে একই বাসায় থাকলেও মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতেন না বা কাউকে জানাননি। পুরো ঘরটি ময়লা-আবর্জনায় নর্দমার মতো হয়ে ছিল।
তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধা কবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহ পঁচে পোকায় ধরে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নূর জাহান বেগমের স্বজনেরা সবাই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার এক ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ের জামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















