ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি

টেকনাফে বিজিবির বিশেষ অভিযানে মানব পাচারচক্রের হাত থেকে ৩ জন উদ্ধার

 

টেকনাফের কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগর পথে পাচারের প্রাক্কালে মানব পাচার চক্রের হাত থেকে তিনজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোররাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের প্রেক্ষিতে আজ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া এলাকার ঝোপঝাড়ে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একাধিক চৌকস দল।

 

অভিযানকালে দেখা যায়, পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের ভূট্টাখেত ও পানের বরজের মাঝামাঝি স্থানে জিম্মি করে রেখে ট্রলারে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগে জিম্মিদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজন পুরুষ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা জানান, উন্নত ভবিষ্যৎ, ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্রটি তাদেরকে সাগর পথে বিদেশে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিজিবির অভিযানে তাদের সেই বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা ভেস্তে যায়।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি বলেন, “এই অভিযান মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রতিফলন। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র—অপরাধীদের জন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। মানব পাচারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান ও নজরদারি জোরদার রয়েছে।

জনপ্রিয়

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক

টেকনাফে বিজিবির বিশেষ অভিযানে মানব পাচারচক্রের হাত থেকে ৩ জন উদ্ধার

আপডেট : ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

টেকনাফের কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগর পথে পাচারের প্রাক্কালে মানব পাচার চক্রের হাত থেকে তিনজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোররাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের প্রেক্ষিতে আজ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া এলাকার ঝোপঝাড়ে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একাধিক চৌকস দল।

 

অভিযানকালে দেখা যায়, পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের ভূট্টাখেত ও পানের বরজের মাঝামাঝি স্থানে জিম্মি করে রেখে ট্রলারে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগে জিম্মিদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজন পুরুষ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা জানান, উন্নত ভবিষ্যৎ, ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্রটি তাদেরকে সাগর পথে বিদেশে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিজিবির অভিযানে তাদের সেই বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা ভেস্তে যায়।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি বলেন, “এই অভিযান মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রতিফলন। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র—অপরাধীদের জন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। মানব পাচারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান ও নজরদারি জোরদার রয়েছে।