ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি

হাদি হত্যার পর খুনিদের দেশছাড়ার চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্ক ফাঁস

  • মোঃ আনজার শাহ
  • আপডেট : ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২১৩ ভিউ

 

জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে একটি সুপরিকল্পিত পাচার নেটওয়ার্কের কথা, যার মাধ্যমে অপরাধীদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছিল।

 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই পালানোর পুরো আয়োজনে নেপথ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। মাঠ পর্যায়ে তার প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেছেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।

 

ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশ আমিনুলকে আটক করেছে। এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার পল্টনে হাদিকে গুলি করার পর প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজানো ছিল। ঘটনার পরপরই তারা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায় এবং কয়েকবার যানবাহন বদলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে তারা।

 

ভারত থেকে মোবাইলে নির্দেশনা তদন্তে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা তাইজুল তখন নিজে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন। হালুয়াঘাট সীমান্তের মানব পাচারকারী ফিলিপ স্নালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে দ্রুত যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন। আমিনুলই পরে ফিলিপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং খুনিদের সীমান্ত পার করিয়ে দিতে ৫ হাজার টাকা পাঠান। প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের অবস্থান শনাক্ত গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরের সর্বশেষ অবস্থান হালুয়াঘাট সীমান্তে শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী ফিলিপের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

 

তাদের কাছ থেকে জানা যায়, টেলিভিশনে সংবাদ দেখে তারা বুঝতে পারে যাদের সীমান্ত পার করে দিয়েছিল তারা রাজধানীতে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে এসেছিল। এরপর মূল পাচারকারী ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যায়।

 

ডিবি পুলিশ আমিনুলকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল স্বীকার করেছেন যে, তাইজুলের নির্দেশেই তিনি অপরাধীদের পালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরান পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে নির্বাচনী প্রচারণার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরদার হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য প্রধান আসামিদের শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং অবশিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

জনপ্রিয়

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক

হাদি হত্যার পর খুনিদের দেশছাড়ার চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্ক ফাঁস

আপডেট : ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে একটি সুপরিকল্পিত পাচার নেটওয়ার্কের কথা, যার মাধ্যমে অপরাধীদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছিল।

 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই পালানোর পুরো আয়োজনে নেপথ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। মাঠ পর্যায়ে তার প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেছেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।

 

ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশ আমিনুলকে আটক করেছে। এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার পল্টনে হাদিকে গুলি করার পর প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজানো ছিল। ঘটনার পরপরই তারা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায় এবং কয়েকবার যানবাহন বদলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে তারা।

 

ভারত থেকে মোবাইলে নির্দেশনা তদন্তে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা তাইজুল তখন নিজে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন। হালুয়াঘাট সীমান্তের মানব পাচারকারী ফিলিপ স্নালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে দ্রুত যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন। আমিনুলই পরে ফিলিপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং খুনিদের সীমান্ত পার করিয়ে দিতে ৫ হাজার টাকা পাঠান। প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের অবস্থান শনাক্ত গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরের সর্বশেষ অবস্থান হালুয়াঘাট সীমান্তে শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী ফিলিপের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

 

তাদের কাছ থেকে জানা যায়, টেলিভিশনে সংবাদ দেখে তারা বুঝতে পারে যাদের সীমান্ত পার করে দিয়েছিল তারা রাজধানীতে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে এসেছিল। এরপর মূল পাচারকারী ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যায়।

 

ডিবি পুলিশ আমিনুলকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল স্বীকার করেছেন যে, তাইজুলের নির্দেশেই তিনি অপরাধীদের পালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরান পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে নির্বাচনী প্রচারণার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরদার হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য প্রধান আসামিদের শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং অবশিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।