ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

 

মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

 

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

 

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন— মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা- আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী- আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা- আলী হোসেন।

 

এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন- ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

 

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন-“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনপ্রিয়

টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

আপডেট : ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

 

মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

 

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

 

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন— মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা- আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী- আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা- আলী হোসেন।

 

এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন- ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

 

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন-“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”