পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ২নম্বর নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিংগুরিয়া গ্রাম থেকে মোসাম্মৎ মাহিরা (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মাহিরা ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি চিংগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিষয়ক লাইব্রেরিয়ান মো. আলমগীর হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাহিরার পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি ছিল বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
একটি কথিত প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৎমা সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য ছিল বলেও জানা গেছে। তবে এসব বিরোধের সঙ্গে মাহিরার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাহিরার সৎমা সুমাইয়া আক্তার জানান, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খাবার খাওয়ার পর মাহিরা তার প্রায় ৮০ বছর বয়সী দাদি আছিরন বেগমের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে ঘুমিয়ে পড়তে তাকে বলা হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে মাহিরাকে দেখতে না পেয়ে দাদির কাছে জানতে চান তিনি কোথায়। পরে বাথরুমের দিকে গিয়ে মাহিরাকে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন সুমাইয়া। তিনি আরও দাবি করেন, মাহিরার সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী এক যুবকের প্রায় দুই বছর ধরে কথিত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি ওই যুবকের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর মাহিরার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে মাহিরার মৃত্যুর পর তার পড়ার টেবিলের ওপর একটি চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ওই চিরকুটে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের দায়ী করার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চিরকুটটি মাহিরার নিজের লেখা কি না এবং সেখানে উল্লেখ করা অভিযোগের সত্যতা কী-তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। মাহিরার সহপাঠীদের কয়েকজন জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার মধ্যে মানসিক চাপ ছিল বলে তারা জানতেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
মাহিরার বাবা মো. আলমগীর হোসেন মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি তখন বাড়ির পথে ছিলেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহিরার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, চিরকুটের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাইসহ তদন্তের পর মাহিরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধিঃ 


















