ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে জাল টাকার কারখানায় বিজিবির অভিযান, ৫১ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ২ টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের বাড়ি রাজশাহী এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন

বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে ধরে নিয়ে গেল কুমির

 

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমির একটি কুকুরকে শিকার করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায় ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ দাবি করেন, কুকুরটিকে হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ অভিযোগ করেন, মাজারের খাদেমরা কুমিরকে কুকুর খাওয়ান। তবে ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজে থেকেই ঘাটের দিকে যায়। একপর্যায়ে পানিতে নামলে কুমিরটি তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে খাদেমরা সেটি মাটিচাপা দেন।

 

ভাইরাল হওয়া ৫৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুর ঘাটে অর্ধেক পানিতে নেমে আছে। কিছুক্ষণ পর কুকুরটি আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে কুমিরটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কুমিরটি কাছে পৌঁছালে কুকুরটি ওপরে উঠে বাঁচার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ঠাকুর দিঘীর প্রধান ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ফোরকান হাওলাদার। এ সময় নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে কুকুরটি ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাঁকালে কুকুরটি অন্য দর্শনার্থীদেরও আক্রমণের চেষ্টা করে। পরে কুকুরটি পানির দিকে নামলে কুমির এসে সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে।

 

নারীদের ঘাটসংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং তিন বছরের এক শিশুকেও কামড় দেয়। তার তিনটি মুরগিও মেরে ফেলেছে কুকুরটি। পানিতে নামার পরই কুমির সেটিকে ধরে নিয়ে যায়।

 

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পেড়েছে। ডিম দেওয়ার সময় মা কুমির হিংস্র হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ থাকলেও কুমিরের মুখ থেকে কুকুরটি উদ্ধার করার মতো সাহস কারও ছিল না।

 

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের নেশায় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা তা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের সামনে দিয়ে থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনোই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। অনেক সময় ভক্তরা কুসংস্কার থেকে জীবন্ত প্রাণী ছুড়ে দিতে চান—এটি বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে এটিই জীবিত আছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে জাল টাকার কারখানায় বিজিবির অভিযান, ৫১ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ২

বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে ধরে নিয়ে গেল কুমির

আপডেট : ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমির একটি কুকুরকে শিকার করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায় ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ দাবি করেন, কুকুরটিকে হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ অভিযোগ করেন, মাজারের খাদেমরা কুমিরকে কুকুর খাওয়ান। তবে ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজে থেকেই ঘাটের দিকে যায়। একপর্যায়ে পানিতে নামলে কুমিরটি তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে খাদেমরা সেটি মাটিচাপা দেন।

 

ভাইরাল হওয়া ৫৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুর ঘাটে অর্ধেক পানিতে নেমে আছে। কিছুক্ষণ পর কুকুরটি আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে কুমিরটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কুমিরটি কাছে পৌঁছালে কুকুরটি ওপরে উঠে বাঁচার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ঠাকুর দিঘীর প্রধান ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ফোরকান হাওলাদার। এ সময় নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে কুকুরটি ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাঁকালে কুকুরটি অন্য দর্শনার্থীদেরও আক্রমণের চেষ্টা করে। পরে কুকুরটি পানির দিকে নামলে কুমির এসে সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে।

 

নারীদের ঘাটসংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং তিন বছরের এক শিশুকেও কামড় দেয়। তার তিনটি মুরগিও মেরে ফেলেছে কুকুরটি। পানিতে নামার পরই কুমির সেটিকে ধরে নিয়ে যায়।

 

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পেড়েছে। ডিম দেওয়ার সময় মা কুমির হিংস্র হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ থাকলেও কুমিরের মুখ থেকে কুকুরটি উদ্ধার করার মতো সাহস কারও ছিল না।

 

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের নেশায় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা তা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের সামনে দিয়ে থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনোই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। অনেক সময় ভক্তরা কুসংস্কার থেকে জীবন্ত প্রাণী ছুড়ে দিতে চান—এটি বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে এটিই জীবিত আছে বলে জানা গেছে।